ঈদগাহ মাঠে ব্যবসায়ীকে গুলি, চার দিনেও গ্রেফতার হয়নি কেউ

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলায় ঈদগাহ মাঠে ব্যবসায়ী মোস্তাক আহমেদকে গুলির ঘটনায় চার দিনেও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

এ ঘটনায় মোস্তাকের বড় ভাই ইকরাম কবির ভূঁইয়া বাদী হয়ে ঘটনার দিন বিকালে নয় জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেছেন। মামলায় গোলাবাড়ি এলাকার রুবেল ভূঁইয়াকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। 

এছাড়া রুবেলের সহযোগী হিসেবে একই এলাকার জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া, সবুজ ভূঁইয়া, জাকির হোসেন ভূঁইয়া, আবদুর রব ভূঁইয়া, মনজিল ভূঁইয়া, নয়ন ভূঁইয়া, মিন্টু ভূঁইয়া ও ফখরুল হাসান চৌধুরীকে মামলার আসামি করা হয়েছে। চার দিন পার হলেও মামলার কোনও আসামি গ্রেফতার হয়নি।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত মঙ্গলবার সকালে ঈদের নামাজের আগমুহূর্তে পূর্ববিরোধের জেরে রুবেল ভূঁইয়া পিস্তল দিয়ে ভূঁইয়া বাড়ি ঈদগাহ মাঠে মোস্তাক আহমেদকে গুলি করে পালিয়ে যায়

ইকরাম কবির ভূঁইয়া বলেন, ‘রুবেলের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর আগে নগরীর চকবাজার এলাকায় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়েছিল। পূর্ববিরোধের জেরে ঈদগাহ মাঠে আমার ভাইকে গুলি করেছে। আমার ভাই হাসপাতালে। এ ঘটনায় মামলা করলেও তাকে গ্রেফতার করছে না পুলিশ।’

এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। আসামিদের গ্রেফতার দাবিতে বৃহস্পতিবার বিকালে গোমতী নদীর বেড়িবাঁধে মানববন্ধন করেন তারা।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ওই এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘ঈদের আগের দিন মোস্তাকের বাড়িতে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটনায় রুবেল ভূঁইয়া ও তার সহযোগীরা। এতে মোস্তাকের বাড়ির লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ঈদের দিন সকালে এলাকাবাসীর কাছে এ ঘটনার বিচার দাবি করেন মোস্তাক। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ঈদগাহ মাঠে জামাতের আগমুহূর্তে রুবেল ভূঁইয়া কোমর থেকে পিস্তল বের করে প্রথমে আকাশের দিকে গুলি ছোড়ে। সঙ্গে সঙ্গে আতঙ্কিত হয়ে মুসল্লিরা চারদিকে ছোটাছুটি শুরু করেন। এই সুযোগে মোস্তাককে লক্ষ্য করে গুলি চালায় রুবেল। এতে গুলিটি তার পায়ে বিদ্ধ হয়। পরে তাকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়।

আরও পড়ুন: ঈদগাহ মাঠে ব্যবসায়ীকে গুলি

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। অথচ চার দিনেও কোনও আসামি গ্রেফতার হয়নি। আমরা আসামিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন স্থানীয় চিকিৎসক সাইদুর রহমান, কাবিলুর রহমান, ইউসুফ মিয়া ও ইকরাম হোসেন। 

তারা বলেন, রুবেলের বিরুদ্ধে থানায় সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজির একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও তাকে গ্রেফতার করছে না পুলিশ। ঈদগাহ মাঠে ব্যবসায়ী মোস্তাককে গুলির ঘটনাটি ন্যক্কারজনক। তাকে ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।

মানববন্ধন শেষে রুবেল ভূঁইয়ার কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। সেই সঙ্গে তাকে দ্রুত গ্রেফতারের জন্য পুলিশের প্রতি অনুরোধ জানান এলাকাবাসী।

আসামিদের গ্রেফতার দাবিতে বৃহস্পতিবার বিকালে গোমতী নদীর বেড়িবাঁধে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী

পাঁচথুবী ইউপি চেয়ারম্যান হাসান রাফি রাজু বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা মর্মাহত। ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।’

আসামিদের গ্রেফতার না করার বিষয়ে জানতে চাইলে কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কমল কৃষ্ণ ধর বলেন, ‘ঘটনার পরপরই আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। ঘটনাস্থল সীমান্তবর্তী এলাকা। আসামিরা যাতে কোনোভাবেই সীমান্ত পার হতে না পারে সেদিকে আমরা লক্ষ্য রাখছি। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার করতে পারবো।’

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুর রহমান বলেন, ‘রুবেলের বিরুদ্ধে থানায় অস্ত্র মামলা আছে। পাশেই সীমান্ত, যে কারণে মামলাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। আসামিরা যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে সেদিকে নজর রাখছে পুলিশ। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের গ্রেফতার করা হবে।’

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার সকালে ঈদের নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন স্থানীয়রা। পূর্ববিরোধের জের ধরে গোলাবাড়ি এলাকার রুবেল ভূঁইয়া পিস্তল দিয়ে ভূঁইয়া বাড়ি ঈদগাহ মাঠে একই এলাকার মোস্তাক আহমেদকে গুলি করে। এ সময় ঈদগাহে থাকা মুসল্লিরা ছোটাছুটি শুরু করেন। পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে মোস্তাক আহমেদকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পলাশ বিশ্বাস বলেন, ‘মোস্তাকের বাঁ হাঁটুতে গুলি লেগেছিল। অস্ত্রোপচার করে গুলি বের করা হয়েছে। তিনি এখন সুস্থ আছেন।’