চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বেসরকারি বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুন লাগার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করছিলেন অলিউর রহমান (২২)। এ সময় হঠাৎ বিস্ফোরণে ছিটকে পড়েন। কিছুক্ষণ পর লাইভ বন্ধ হয়ে যায়।
রাত ১১টার পর থেকে অলিউরের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। রবিবার (৫ জুন) সকালে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল মর্গে লাশ শনাক্ত করেন স্বজনরা।
অলিউরের বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের ফটিগুলী গ্রামে। তিনি বিএম কনটেইনার ডিপোতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
অলিউরের সহকর্মী রুয়েল বলেন, ‘যখন বিস্ফোরণ ঘটে, তখন রাতের খাবারের সময়। খাবারের জন্য আমরা ডিপো থেকে চলে আসি। কিন্তু ফেসবুকে লাইভ করার জন্য অলিউর থেকে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘সে আর বেঁচে নেই। তার ক্ষতবিক্ষত লাশ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। লাশ নেওয়ার জন্য স্বজনরা এসেছেন।’
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া অলিউরের ভিডিওতে দেখা যায়, ৪০ মিনিট লাইভ চলার পর হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। তারপর ওই লাইভটি অন্তত আরও চার মিনিট চলে। এই সময়টা স্ক্রিন অন্ধকার ছিল।
এদিকে ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। রবিবার (৫ জুন) দুপুর ১টা পর্যন্ত ৩৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি চার শতাধিক। তাদের মধ্যে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীও রয়েছেন।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, ‘দুপুর ১টা পর্যন্ত ৩৩ জনের লাশ এসেছে। লাশগুলো হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে। সকাল ৯টার পর যে লাশগুলো আনা হয়েছে, সেগুলো চেনার উপায় নেই। পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ টেস্ট করা লাগতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অধিকাংশরাই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। তাদের তথ্য আমাদের কাছে নেই। আহতদের মধ্যে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে ৮৪ জন। সেই সঙ্গে সিএমএইচ, বেসরকারি হাসপাতাল পার্ক ভিউ, ন্যাশনাল হাসপাতাল ও মেট্রোপলিটনসহ বিভিন্ন হাসপাতালে অনেকে চিকিৎসাধীন আছেন। কয়েকজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।’