আমাদের এভাবে বরণ করবে কখনও কল্পনা করিনি: ঋতুপর্ণা

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী বাংলাদেশ ফুটবল দলের পার্বত্য চট্টগ্রামের পাঁচ ফুটবলারকে রাঙামাটিতে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে এই পাঁচ ফুটবলারের বিদ্যাপীঠ ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তাদেরকে নিয়ে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কের প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ প্রদক্ষিণ শেষে শহরের চিং হ্লা মং মারী স্টেডিয়ামে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেয়। এই সময় সড়কের দুই পাশে হাজার হাজার মানুষ হাত তুলে তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

স্টেডিয়ামে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন- খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুপ্রু চৌধুরী, বিজিবি রাঙামাটি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. তরিকুল ইসলাম, রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, পুলিশ সুপার মীর আবু তৌহিদ, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা আশ্রাফুল ইসলাম, পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী ও প্রায় কয়েক হাজার দর্শক।

সংবর্ধনা দেওয়া পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি জেলার রুপনা চাকমা, ঋতুপর্ণা চাকমা এবং খাগড়াছড়ির মনিকা চকমা ও যমজ দুই বোন আনাই মগিনী ও আনুচিং মগিনীকে।

এই সময় সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদারের ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে প্রতি খেলোয়াড়কে ৫০ হাজার করে টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমার পক্ষ থেকে ৫০ হাজার করে টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়। জেলা পরিষদ থেকে প্রতি খেলোয়াড়কে দুই লাখ টাকা করে দেওয়া হয়। বিজিবি সেক্টর, সদর জোন, পৌর মেয়রের পক্ষ হতে শুভেচ্ছা স্মারক দেওয়া হয়। আর আগে সাফের গৌরব অর্জনের পরপরই রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান দেড় লাখ টাকার চেক ও ফুল রুপনা ও ঋতুপর্ণার বাড়িতে গিয়ে দিয়ে আসেন।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে ঋতুপর্ণা চাকমা বলেন, এত মানুষের মধ্যে আমি কখনও কথা বলিনি। এভাবে রাঙামাটিবাসী আমাদের বরণ করবে এটা কখনও কল্পনা করিনি। আমরা সাফ জয়ী হয়েছি বলে এই সংবর্ধনা পাচ্ছি। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া ও আশীর্বাদ করবেন যেন আগামীতে দেশের জন্য আরও ভালো কিছু করতে পারি।

তিনি আরও বলেন, আমরা যে বিদ্যালয় থেকে আজ এখানে উঠে এসেছি, বিদ্যালয়ের সবাই খুব কষ্ট করে আমাদের তৈরি করেছেন। প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আমাদের দাবি, ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয়টি যেন সরকারি করে দেন। একইসঙ্গে এখনও অনেক মেয়ে ঘাগড়া বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা করছে। স্থানীয় প্রশাসন তাদের খোঁজ-খবর রাখলে আরও অনেক নারী ফুটবলার তৈরি করা সম্ভব হবে। সবশেষ যারা আমাদের খেলা শিখিয়েছেন তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।

রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুপ্রু চৌধুরী বলেন, ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্ট চালু করার কারণে গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকার ছেলে ও মেয়ে তাদের প্রতিভা বিকাশের
সুযোগ পেয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের সম্ভাবনাময়ী ফুটবল খেলোয়াড়দের জন্য এখানে আগামী অর্থবছর থেকে একটি ফুটবল অ্যাকাডেমি ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে। সাফ বিজয়ী সব খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা দেওয়ার ইচ্ছে ছিল। সময় ও সীমাবদ্ধতার কারণে সেটি সম্ভব হয়নি।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, সমতল থেকে পাহাড়ে আজ এই উপলক্ষ তৈরি করে দিয়েছে সেই বীর কন্যাদের জানাচ্ছি আন্তরিক অভিনন্দন। আজ যারা সাফ বিজয়ী তোমাদের নতুন করে যাত্রা শুরু হলো। তোমাদের আরও অনেক দূর যেতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার বলেন, যেখানে পুরুষ ফুটবলাররা লক্ষাধিক টাকার বেতন পেলেও নারী ফুটবলাররা ১৫-২০ হাজার টাকা সম্মানী পান। আমাদের বিশ্বাস সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পরে নারী ফুটবলাররা সম্মানজনক পারিশ্রমিক পাবেন।

উল্লেখ্য, রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার পাহাড়ি এক গ্রামে অবস্থিত ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয়। যাকে বলা হয় নারী ফুটবলার তৈরির সূতিকাগার। সাফজয়ী ফুটবল দলের পাঁচ খেলোয়াড় উঠে এসেছেন এই বিদ্যালয় থেকে। এখানেই প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে ফুটবল খেলার হাতেখড়ি আনাই, আনুচিং, মনিকা, ঋতুপর্ণা, রুপনাদের।