চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে সাগরে ড্রেজারডুবির ঘটনার ৪৫ ঘণ্টা পরও চার শ্রমিকের সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় মোট আট শ্রমিক নিখোঁজ ছিলেন। তাদের মধ্যে মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) রাতে একজন ও বুধবার (২৬ অক্টোবর) তিন জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ চার শ্রমিকের অপেক্ষায় সাগরপাড়ে অপেক্ষা করছেন স্বজনরা।
সকালে উদ্ধার হওয়া তিন শ্রমিক হলেন—পটুয়াখালী সদরের সদর উপজেলার চর জৈনকাঠি গ্রামের আনিচ মোল্লার ছেলে ইমাম মোল্লা, আবদুল হক মোল্লার ছেলে মাহমুদ মোল্লা, সেকান্দার বারির ছেলে জাহিদ বারি।
এর আগে মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) রাতে ড্রেজারডুবির স্থান থেকে আল আমিন নামে এক শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করা হয় তিনি। তিনি একই এলাকার ফকির রহমানের ছেলে।
আরও পড়ুন: মীরসরাইয়ে ড্রেজারডুবি, আরও ৩ জনের লাশ উদ্ধার
এখনও নিখোঁজ চার শ্রমিক হলেন—পটুয়াখালী সদর উপজেলার চর জৈনকাঠি গ্রামের মোল্লা বাড়ির আবদুর রহমানের ছেলে তারেক মোল্লা, আনিচ মোল্লার দুই ছেলে শাহীন মোল্লা, ইউসুফ হাওলাদারের ছেলে বসার হাওলাদার ও নুরু সর্দারের ছেলে আলম সর্দার।
ড্রেজারডুবির ঘটনায় বেঁচে ফেরা শ্রমিক মো. সালাম জানান, সোমবার রাতে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে তীব্র বাতাস ও ঢেউয়ে সৈকত-২ নামে তাদের ড্রেজারটি মীরসরাই উপকূলের সন্দ্বীপ চ্যানেলে ডুবে যায়। ড্রেজারের মালিক সৈকত এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠানকে মীরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে নিয়োগ দিয়েছে বেপজা। ড্রেজারটিতে থাকা ৯ শ্রমিকের মধ্যে তিনি কিনারে আসতে পারলেও বাকি আট শ্রমিক আটকা পড়েন।
এ ঘটনায় নিখোঁজ ছিলেন চর জৈনকাঠি গ্রামের আনিচ মোল্লা ও হাসিনা বেগম দম্পতির দুই ছেলে শাহিন মোল্লা (৩৮) ও ইমাম মোল্লা (৩২)। তাদের মধ্যে আজ সকালে ইমামের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ নিতে সাগড়পাড়ে ছুটে গেছেন তাদের স্বজন জামাল উদ্দিন।
তিনি বলেন, ‘শুরু থেকে উদ্ধারকাজে অবহেলা লক্ষ্য করা গেছে। প্রশাসন আন্তরিক থাকলে এতক্ষণে সবার লাশ উদ্ধার করা সম্ভব ছিল। আর কত ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে জানি না।’
আরও পড়ুন: ড্রেজার ডুবে ৮ শ্রমিকের মৃত্যু, চর জৈনকাঠি গ্রামজুড়ে আহাজারি
মীরসরাই ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা ইমাম হোসেন পাটোয়ারি বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে একজনের লাশ উদ্ধারের পর রাত ১২টায় উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়। আজ সকাল ৯টা থেকে পুনরায় উদ্ধার শুরু হয়। আরও তিন শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদেরও উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’
বিকালে কোস্টগার্ড মীরসরাই স্টেশনের সিপিটি অফিসার (সিপিও) জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ডুবুরি দল চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত আর কোনও লাশ পাওয়া যায়নি। ড্রেজারটি পানিতে উপুড় ডুবে যাওয়ায় ভেতরের দুটি কম্পার্টমেন্টে ঢোকা যাচ্ছে না। ওই কম্পার্টমেন্টে বালু ভরাট হয়ে গেছে। ড্রেজারটি উদ্ধারে ক্রেন প্রয়োজন। বিকাল পর্যন্ত কোনও ক্রেন না আসায় উদ্ধার অভিযানে অগ্রগতি পাওয়া যায়নি।’
মীরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিনহাজুর রহমান বলেন, ‘নিখোঁজ আট শ্রমিকের মধ্যে চার জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি চার জনকে উদ্ধারে একটি ভলগেট ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। এখন উদ্ধার কাজ স্থগিত রয়েছে। চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ থেকে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে একটি বিশেষজ্ঞ টিম আসছে। এছাড়া ড্রেজারটি উল্টানোর জন্য বেসরকারি একটি ক্রেন কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। ওই কোম্পানির লোক আসলে তারা দুর্ঘটনার স্থল ও ধরন দেখবেন। এরপর তাদের পরামর্শ অনুযায়ী উদ্ধার তৎপরতা শুরু হবে।’