ঢাকা-চাঁদপুর নৌপথ

ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছে লঞ্চগুলো

ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থল ঢাকায় যাচ্ছেন মানুষজন। এ অবস্থায় চাঁদপুরের লঞ্চগুলোতে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। চাপ বেশি থাকায় ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী নিয়ে চাঁদপুর ছাড়ছে লঞ্চগুলো। লঞ্চের নিচতলার ও দোতলার ডেকে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। 

শুক্রবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চাঁদপুর থেকে সবগুলো লঞ্চ ধারণক্ষমতার দুই-তিনগুণ যাত্রী নিয়ে ঢাকায় গেছে। এর মধ্যে ছিল এমভি জামাল, এমভি রহমত ও এমভি রফরফ-২। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, এসব লঞ্চের নিচতলার ও দোতলার ডেকে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। যাত্রীরা জায়গা না পেয়ে লঞ্চের ছাদে চাদর বিছিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন।

যাত্রীরা জানিয়েছেন, শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চাঁদপুর ঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চগুলোতে যাত্রীর চাপ বেশি। বিকালে চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এ অবস্থায় লঞ্চের ডেক থেকে শুরু করে ছাদেও উঠেছেন কেউ কেউ। বসার জায়গা না পেয়ে অনেকে দাঁড়িয়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন। সবগুলো লঞ্চ ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী বহন করছে।

তবে লঞ্চের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ঈদে লঞ্চে যাত্রী কম। সিডিউল অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে লঞ্চগুলো গন্তব্যে যাচ্ছে।

বেলা ১১টায় চাঁদপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায় এমভি জামাল, সাড়ে ১১টায় ছেড়ে যায় এমভি রহমত এবং দুপুর ১২টায় ছেড়ে যায় এমভি রফরফ-২

শুক্রবার সকাল ১০টায় চাঁদপুর লঞ্চঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, টার্মিনালে ঢুকতেই সিএনজি অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনের জট লেগে আছে। ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশে চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর জেলাসহ পাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে যাত্রীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে আসছেন লঞ্চঘাটে। টার্মিনালে ঢুকেই লঞ্চ পেয়ে যাচ্ছেন তারা। প্রতিটি লঞ্চ এক ঘণ্টার মধ্যে পরিপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। তবে যাত্রীদের চাপ থাকায় অতিরিক্ত যাত্রী তুলছেন লঞ্চের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। 

বেলা ১১টায় চাঁদপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায় এমভি জামাল, সাড়ে ১১টায় ছেড়ে যায় এমভি রহমত এবং দুপুর ১২টায় ছেড়ে যায় এমভি রফরফ-২। এই তিনটি লঞ্চ ধারণক্ষমতার দুই-তিন গুণ যাত্রী নিয়ে ঢাকায় গেছে। অথচ এসব লঞ্চে ধারণক্ষমতা ৮০০ থেকে ৯০০ যাত্রী।

লক্ষ্মীপুর থেকে আসা হাসানুর রহমান বলেন, ‘বেলা সাড়ে ১১টায় ঘাটে এসে রফরফ লঞ্চটি পেয়েছি। সুলভ শ্রেণির চেয়ার না পেয়ে বিজনেস ক্লাসের চেয়ার নিতে হয়েছে ৩৫০ টাকায়। ঈদের ছুটি শেষ হওয়ায় যাত্রীদের চাপ অনেক বেশি। এ জন্য ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী নিয়ে ঘাট ছাড়ছে লঞ্চগুলো।’

ঢাকার উদ্দেশে যাওয়া চাঁদপুর শহরের আবিদা সুলতানা বলেন, ‘আগে ঈদের সময় লঞ্চে বসার এমনকি দাঁড়ানোর জায়গা পেতাম না। তবে এবার ঈদে আসার সময় অন্যান্য বছরের তুলনায় স্বস্তি পেয়েছি। কিন্তু যাওয়ার সময় যাত্রীদের চাপ অনেক বেশি। কয়েক মাস আগে লঞ্চের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। হয়তো এ জন্য ঈদে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না। আগের ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে।’

এমভি রফরফ-২ লঞ্চের ভেতরের চিত্র

চাঁদপুর ঘাটের লঞ্চ মালিক সমিতির প্রতিনিধি আজগর আলী সরকার বলেন, ‘আধা ঘণ্টা পর পর লঞ্চ যাচ্ছে ঢাকায়। যাত্রীদের কোনও সমস্যা হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার আবহাওয়া কিছুটা খারাপ থাকায় যাত্রীরা কম এসেছেন। এ কারণে শুক্রবার যাত্রীদের চাপ বেশি। যাত্রীদের কাছ থেকে আগের ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে।’

চাঁদপুর নদীবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ঢাকা-চাঁদপুর নৌপথের লঞ্চে ডেকের ভাড়া ১৯০ টাকা, নিচের চেয়ার ২৫০ টাকা, বিজনেস ক্লাস ৩৫০ টাকা, কেয়ার ক্লাস ৪০০ টাকা, ননএসি সিঙ্গেল কেবিন ৬০০ টাকা এবং ডাবল কেবিন ১২০০ টাকা, এসি সিঙ্গেল কেবিন ৭০০, ডাবল ১৪০০, এসি ফ্যামিলি কেবিন ১৬০০, মিনি ভিআইপি কেবিন ২০০০, ভিআইপি কেবিন ২৬০০ ও সিআইপি কেবিন ২৮০০ টাকা।

বিআইডব্লিউটিএর চাঁদপুর লঞ্চঘাটের দায়িত্বরত ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) শাহ আলম বলেন, ‘চাঁদপুর থেকে বিভিন্ন নৌপথে অন্তত ৪০টি লঞ্চ চলাচল করছে। যাত্রীদের চাপ কম হওয়ায় এ বছর ঈদে ঢাকা-চাঁদপুর নৌপথে স্পেশাল লঞ্চের প্রয়োজন হয়নি। চাঁদপুর থেকে দিনে ২৫টি লঞ্চ ঢাকায় যাচ্ছে এবং ২৬টি চাঁদপুর ঘাটে আসছে। এ ছাড়া চাঁদপুর-নারায়ণগঞ্জের মধ্যে চলাচলকারী ১০টি ছোট লঞ্চ নিয়মিত চলছে। সবগুলো লঞ্চ নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে যাচ্ছে। কোনও লঞ্চ অতিরিক্ত যাত্রী নিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’