তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘কেউ স্বীকার করুক কিংবা না করুক, গত সাড়ে ১৪ বছরে দেশ এগিয়ে গেছে অনেক দূর। সরকারের এই অগ্রযাত্রা যাতে অব্যাহত থাকে, সেজন্য সবার সহযোগিতা চাই। আমি সব দলমতের মানুষের এমপি হওয়ার চেষ্টা করেছি। গত সাড়ে ১৪ বছর সবার জন্য আমার দুয়ার খোলা ছিল। ভবিষ্যতে যদি কোনও আবেদন নিয়ে আপনাদের দুয়ারে আসি, দয়া করে দলমত নির্বিশেষে খোলা রাখবেন। এটাই আপনাদের কাছে আমার প্রত্যাশা।’
শনিবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম শহরের রাঙ্গুনিয়া সমিতি আয়োজিত সুধী সমাবেশে রাজধানীর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমার দলের নেতাকর্মীদের সবসময় বলি, ক্ষমতায় থাকলে বিনয়ী হতে হয়, মাথা নিচু করে চলতে হয়, বিনয় মানুষকে মহান করে। আমি চেষ্টা করছি, আপনাদের পাশে থাকার। সরকারের মন্ত্রী ও দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রতি সপ্তাহে আপনাদের খোঁজখবর নিতে চট্টগ্রামে ও রাঙ্গুনিয়ায় যাই।’
রাঙ্গুনিয়া কৃষিপ্রধান জনপদ, চাষাবাদে সুবিধার জন্য তিনটি রাবার ড্যাম নির্মাণ করা হয়েছে উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের প্রচুর কৃষিজমি আছে। আগে রাঙ্গুনিয়া থেকে কৃষিপণ্য শহরে আসতো, এখনও আসে। তবে এখন কিছু কিছু কৃষিপণ্য শহর থেকে রাঙ্গুনিয়া যাওয়া শুরু করেছে। প্রচুর কৃষিজমি অনাবাদি পড়ে আছে। রাঙ্গুনিয়ায় কৃষিজমি অনাবাদি পড়ে থাকার কোনও কারণ নেই।’
তিনি বলেন, ‘অনেক ছেলে বিদেশে গেছে, সেখান থেকে টাকা পাঠায়। পরিবারের অন্যরা কাজ না করে জমিগুলো অনাবাদি ফেলে রেখেছে, এতে দেশের ক্ষতি হচ্ছে। রাঙ্গুনিয়ার কোনও কৃষিজমি যাতে অনাবাদি পড়ে না থাকে, সেদিকে সবাইকে নজর দিতে হবে। কালিন্দীরানি সড়ক ও মরিয়মনগর ডিসি সড়ক প্রশস্তকরণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।’
রাঙ্গুনিয়ার উন্নয়ন নিয়ে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘গত সাড়ে ১৪ বছরে এমন কোনও স্কুল-কলেজ ও আলিয়া মাদ্রাসা নেই, যেখানে নতুন ভবন হয়নি। এমন কোনও বেসরকারি মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির ও প্যাগোডা নেই বরাদ্দ পায়নি। নতুনভাবে ২৮টি মসজিদ নির্মিত হয়েছে। আগেও অনেকে রাঙ্গুনিয়া থেকে নির্বাচিত এমপি ও মন্ত্রী ছিল। তারা কতটুকু করতে পেরেছেন, আপনারাই ভালো জানেন।’
আমি চেষ্টা করেছি রাঙ্গুনিয়ার মানুষের কল্যাণে কাজ করার উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কয়েক হাজার ছেলেমেয়ের চাকরি হয়েছে। বিএনপি করে এমন পরিবারের সন্তানদের চাকরিও আমার হাত দিয়ে হয়েছে। ১৪ বছর আগে রাঙ্গুনিয়ার আভ্যন্তরীণ যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম মরিয়মনগর ডিসি সড়ক, পারুয়া ডিসি সড়ক ও কালিন্দীরানি সড়কের অবস্থা খারাপ ছিল। আজকে রাঙ্গুনিয়ার সব রাস্তাঘাট পিচ ঢালাই হয়ে গেছে। এভাবে রাঙ্গুনিয়ার প্রতিটি গ্রাম ও জনপদ বদলে গেছে। আপনারা যদি ভবিষ্যতেও সুযোগ দেন, তাহলে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’
চট্টগ্রাম নগরীর ষোলশহরের এলজিইডি ভবনের কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী মিলনায়তনে রাঙ্গুনিয়া সমিতির আহ্বায়ক খালেদ মাহমুদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চুয়েটের ভিসি ড. রফিকুল আলম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. সেকান্দর চৌধুরী, এলজিইডির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তফাজ্জল হোসেন, পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক হিল্লোল বিশ্বাস, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান স্বজন কুমার তালুকদার, জেলা পরিষদ সদস্য আবুল কাশেম চিশতি ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা জহির আহমদ চৌধুরী।