ক্ষতিপূরণ দেওয়ায় কমেছে হাতির ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার প্রবণতা

চট্টগ্রামে গত দুই বছরে হাতির আক্রমণে মারা গেছেন চার জন। আহত হয়েছেন একজন। পাশাপাশি এই দুই বছরে ৩৭ জনের ক্ষেত-ফসল ও ঘরবাড়ি নষ্ট করার অভিযোগে হাতির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে গ্রামবাসী।

বিভিন্ন সময়ে লোকালয়ে ছুটে আসা হাতির দল গ্রামবাসীর ক্ষয়ক্ষতি করে চলেছে। তবে হাতির আক্রমণ দিন দিন বাড়লেও হাতির ওপর গ্রামবাসীর প্রতিশোধ নেওয়ার প্রবণতা কমেছে। বসানো হচ্ছে না আগের মতো হাতি হত্যার ‘ফাঁদ’।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হাতির আক্রমণে কেউ মারা গেলে তিন লাখ টাকা করে দিচ্ছে সরকার। আহত হলে দেওয়া হচ্ছে এক লাখ টাকা করে। একইভাবে ক্ষেত-ফসল, ঘরবাড়ি কিংবা অন্যকিছু ক্ষয়ক্ষতি হলে দেওয়া হচ্ছে ক্ষতিপূরণ। যে কারণে হাতির প্রতি মানুষের প্রতিশোধ নেওয়ার প্রবণতা কমেছে। এখন হাতি মারার জন্য ফাঁদ বসানো হয় না। কৃষকরাও জেনেছে হাতি ফসল নষ্ট করলে ক্ষতিপূরণ পাবে।’

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগ সূত্র জানায়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে হাতির আক্রমণে মারা গেছেন দুজন। প্রতি জনকে তিন লাখ টাকা করে ছয় লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হয়। একইভাবে হাতির আক্রমণে আহত এক ব্যক্তিকে দেওয়া হয় এক লাখ টাকা। এ সময় ৩৫ জনের ক্ষেত-ফসল, ঘরবাড়িসহ নানা স্থাপনা হাতির আক্রমণে ক্ষতি হয়। এজন্য ক্ষতিগ্রস্তদের ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়

গত বছর ২০২১-২২ অর্থবছরে হাতির আক্রমণে মারা গেছেন দুজন। তাদের পরিবারকে তিন লাখ টাকা করে ছয় লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হয়। ওই সময় দুটি পরিবারের ক্ষেত-ফসল ক্ষতি করা হয়। ওই দুই পরিবারকে ৩০ হাজার টাকা করে ৬০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।

চট্টগ্রামে হাতির সবচেয়ে বেশি পদচারণা রয়েছে রাঙ্গুনিয়া, বাঁশখালী, সাতকানিয়া, পটিয়া, কর্ণফুলী, আনোয়ারা ও লোহাগাড়া উপজেলায়। ডিসেম্বর মাসে হাতির উপদ্রব সবচেয়ে বেশি বাড়ে। তখন মাঠে ফসল বেশি থাকে। হাতির দল তখন এসব খেতে পাহাড় থেকে লোকালয়ে ছুটে আসে। 

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হাতির আক্রমণে মৃত্যু, আহত কিংবা ক্ষেত-ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে বিপন্নপ্রায় এ প্রাণীটির প্রতি মানুষের আক্রমণাত্মক মনোভাব পরিবর্তন হয়েছে। ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি জিডি করতে হয়। চার সদস্যের একটি যাচাই-বাছাই কমিটি আছে। ওই কমিটির সভাপতি স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। সদস্য স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য এবং বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা। পরবর্তীতে তাদের সুপারিশ চট্টগ্রাম অফিস হয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়। আবেদনের মাত্র এক-দেড় মাসের মধ্যে ক্ষতিপূরণের প্রাপ্য অর্থ দেওয়া হয়।’