ভোগ্যপণ্য ও শিল্পের কাঁচামালসহ অন্যান্য পণ্য নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো পাকিস্তানের করাচি ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই হয়ে বাংলাদেশে এসেছে ‘এমভি ইউয়ান জিয়াং ফা ঝান’ নামের জাহাজটি। শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) বিকাল ৫টায় জাহাজটি বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শুক্রবার করাচি-দুবাই হয়ে জাহাজটি দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছে। আজ শনিবার (২১ ডিসেম্বর) বিকাল ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছাবে। ওই জাহাজ আগামীকাল রবিবার দুপুর ২টার দিকে বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) জেটিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এরপর জাহাজ থেকে পণ্য খালাস শুরু হবে।’
দুবাইভিত্তিক কনটেইনার জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থা ফিডার লাইন্স ডিএমসিসি দুবাই-করাচি-চট্টগ্রাম-মালয়েশিয়া-ইন্দোনেশিয়া-ভারত-দুবাই রুটে ‘এমভি ইউয়ান জিয়াং ফা ঝান’ জাহাজটি চালু করেছে। রিজেন্সি লাইনস লিমিটেড জাহাজটির বাংলাদেশের এজেন্ট। পানামার পতাকাবাহী জাহাজটি এর আগে গত ১১ নভেম্বর প্রথমবার দুবাই থেকে করাচি হয়ে চট্টগ্রাম পৌঁছে।
জাহাজটির বাংলাদেশের এজেন্ট রিজেন্সি লাইনস লিমিটেডের অপারেশন ম্যানেজার ইসমাইল আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এমভি ইউয়ান জিয়াং ফা ঝান জাহাজটিতে ৯৯৭টি বক্স আছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে নামবে ৭৮০ বক্স। দুবাইয়ের জেবল আলী বন্দর থেকে জাহাজে তোলা হয়েছে ১০৫ বক্সে ১২৬ একক কনটেইনার এবং পাকিস্তানের করাচি থেকে তোলা হয়েছে ৬৭৮ বক্সে ৬৯৯ একক কনটেইনার।’
তিনি আরও বলেন, ‘এসব কনটেইনার খালাসের পর আশা করছি, আগামী ২৩ ডিসেম্বর জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দর ত্যাগ করবে।’
চট্টগ্রাম বন্দরে যেসব কনটেইনার খালাস হবে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে চিনি, সোডা অ্যাশ, ডেনিম ফেব্রিকস, সুতা, ডলোমাইট লুম্পস, ন্যাচারাল ডলোমাইট, ড্রাই ফিশ (শুঁটকি), ইউপিএস, আলু, রেডিয়েটর কোর ইত্যাদি।
এর আগে, গত ১১ নভেম্বর একই জাহাজে করে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম বন্দরে ৩২৮ বক্স কনটেইনারে ৩৭০ একক কনটেইনার কার্গো নামানো হয়। এর মধ্যে পাকিস্তান থেকে আনা হয় ২৯৭ একক কনটেইনার, বাকিগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে।
কনটেইনারগুলোর মধ্যে বেশিরভাগেই ছিল টেক্সটাইল ও কাচ শিল্পের কাঁচামাল। এ ছাড়া পেঁয়াজ, আলু, গাড়ির যন্ত্রাংশ, রঙ তৈরির কাঁচামাল, চুনাপাথর, সোডা অ্যাশ, ম্যাগনেশিয়াম কার্বোনেট, ডলোমাইট ইত্যাদিও ছিল। এসব পণ্য আমদানি করেছিল বাংলাদেশের আকিজ গ্লাস কারখানা, প্যাসিফিক জিনস, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, নাসির গ্লাস, এক্স সিরামিকস, হাফিজ করপোরেশন, এমআর ট্রেডিংসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।