গত ২০ মার্চ সন্ধ্যায় টিউশনি করে বাসায় ফেরার পথে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা করা হয় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুকে।পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ময়নামতি সেনানিবাস এলাকার পাওয়ার হাউসের পানির ট্যাংকের পাশে তনুর মৃতদেহ খুঁজে পান তার বাবা। পরে লাশ কুমিল্লা সিএমএইচে নিয়ে যান তারা।
ইয়ার হোসেন বলেন, ‘তনু দুটি টিউশনি করতো। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বাসা থেকে বের হতো। ওর মা আনোয়ারা বেগম এগিয়ে দিত। রাতে ফেরার পথেও ওর মা এগিয়ে নিয়ে আসতো। যেখানে টিউশনি করতো তার দূরত্ব বাসা থেকে ২০০ গজ। হত্যাকাণ্ডের স্থল বাসা থেকে ১০০ গজ দূরে। আমি এখানে ৩১ বছর চাকরি করি। আট বছর ধরে কোয়ার্টারে থাকি। সেনানিবাসের সুরক্ষিত এলাকায় কারা ওকে মেরেছে জানি না। আল্লাহ দেখেছেন। আমি তনুর হত্যাকারীদের কঠিন বিচার চাই।’
তনুদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে। এখন পুরো পরিবার সেখানে অবস্থান করছে। বাড়িতে ভিড় করছেন পাশের গ্রামের মানুষ।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আবদুর রব বলেন, ‘২১ মার্চ তনুর বাবা কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তিদের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ২১ মার্চ আমরা সিএমএইচ থেকে তনুর লাশ উদ্ধার করি। তনুর লাশে কয়েকটি আঘাতের চিহ্ন ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। এখনও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।’
এদিকে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম জীবন জানিয়েছেন, তনুর হত্যার বিচার দাবিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা কান্দিরপাড়ে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
/এফএস/এইচকে/