চট্টগ্রাম বন্দরে আন্দোলনে জড়িত ১৫ কর্মচারীর বাসা বরাদ্দ বাতিল

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) আরব আমিরাত ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’কে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বন্দরে আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টিতে জড়িত ১৫ কর্মচারীর এবার বাসা বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বন্দরের পরিচালকের (প্রশাসন) সই করা এক আদেশে এই বরাদ্দ বাতিল করা হয়।

বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চিফ পারসোনেল কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের আলোকে রবিবার তাদের নামে বরাদ্দ করা বাসা বাতিল করা হয়েছে।’

বন্দরের আদেশে বলা হয়, ১৫ জন কর্মচারীকে ২ ফেব্রুয়ারি জনস্বার্থে প্রেষণে মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করে সংযুক্ত করা হয়। বদলি করার পর তাদের নিজ নিজ বিভাগ থেকে অবমুক্ত করা হয়। অবমুক্তির তারিখ থেকে দুই কার্যদিবসে বদলি করা কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে তারা এখনও বদলি কর্মস্থলে যোগ দেননি। এ জন্য তাদের অনুকূলে বরাদ্দ করা বাসা (যদি থাকে) বাতিল করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আদেশে।

এই ১৫ কর্মচারীর মধ্যে রয়েছেন- চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর ও মো. ইব্রাহিম খোকন। অন্যরা হলেন- ফরিদুর রহমান, মোহাম্মদ শফি উদ্দিন, রাশিদুল ইসলাম, আবদুল্লাহ আল মামুন, জহিরুল ইসলাম, খন্দকার মাসুদুজ্জামান, হুমায়ুন কবীর (এসএস পেইন্টার), শাকিল রায়হান, মানিক মিঝি, শামসু মিয়া, লিয়াকত আলী, আমিনুর রসুল বুলবুল ও রাব্বানী।

এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিমের সই করা এক চিঠিতে এ ১৫ জনের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে অনুরোধ জানানো হয়।

এ সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দরে আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এই ১৫ কর্মচারীকে গত ২ ফেব্রুয়ারি মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়েছে। চলমান তদন্ত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তারা যেন দেশত্যাগ করতে না পারে, সেজন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করার অনুরোধ করা হয়েছে। একই চিঠিতে দুদককে তাদের সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ তদন্তের জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে।

এনসিটি ইজারা না দেওয়া, বন্দর চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবিতে রবিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। এর আগে ৩১ জানুয়ারি থেকে ৮ ঘণ্টা করে তিন দিন কর্মবিরতি পালন হয়। এরপর গত মঙ্গলবার শুরু হয় লাগাতার কর্মবিরতি। বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে আন্দোলনকারীদের এক বৈঠকের পর লাগাতার কর্মবিরতি দুই দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে বন্দর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে অনেক শ্রমিক রবিবার দুপুর থেকে কাজে যোগদান করেছে।