ঢাকার সদরঘাট থেকে নোয়াখালীর হাতিয়ায় যাওয়ার পথে ঝড়ের কবলে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী লঞ্চ এমবি সুগন্ধা ডুবোচরে (বগারচর) উঠে যায়। এতে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান লঞ্চের ভেতরে থাকা ৭০ থেকে ৮০ জন যাত্রী। তারা সবাই ওই চরে আটকা পড়েছেন।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোর ৪টার দিকে লক্ষ্মীপুরের মেঘনার মজু চৌধুরীর ঘাটের পূর্ব-দক্ষিণ দিকে এ ঘটনা ঘটে। বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত লঞ্চটি নদীতে নামানো সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।
লঞ্চে চড়ে অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকা থেকে হাতিয়ায় যাচ্ছিলেন হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা বিমান চন্দ্র আচার্য। তিনি বলেন, ‘আজ ভোর ৪টার দিকে লঞ্চটি লক্ষ্মীপুরের মজু চৌধুরীর হাটের পূর্ব-দক্ষিণের মেঘনা নদী অতিক্রমকালে হঠাৎ প্রচণ্ড বেগে ঝড় শুরু হয়। এ সময় লঞ্চের মাস্টার ঝোড়ো বাতাসের কারণে লঞ্চের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে লঞ্চটি নদীর ডুবোচরে উঠে পলির সঙ্গে আটকে যায়। ওই চরের নাম বগারচর। লঞ্চ ডুবোচরে আটকে যাওয়ার পর ভেতরে থাকা নারী-শিশুসহ যাত্রীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে কান্নাকাটি শুরু করেন।’
বিমান চন্দ্র আচার্য জানান, লঞ্চ ডুবোচরে আটকে যাওয়ার কারণে যাত্রীরাও চরে আটকা পড়েন। দুপুরে নদীতে জোয়ার এলেও তা পর্যাপ্ত না হওয়ায় লঞ্চটি নদীতে নামানো সম্ভব হয়নি। এর ফলে বিকাল ৫টা পর্যন্ত তারা সেখানে আটকা পড়ে ছিলেন। বিষয়টি হাতিয়ার কোস্টগার্ডকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে হাতিয়া কোস্টগার্ডের মিডিয়া বিভাগের কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি তারা।
নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে হাতিয়া উপজেলা প্রশাসন, কোস্টগার্ড ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছি। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলেছি তাদের।’