ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা (ভ্যাকসিন) প্রয়োগের নামে টাকা দাবি এবং টাকা না পেয়ে রোগীকে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে মোর্শেদা আক্তার নামে এক নার্সের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার বিষয় নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে।
অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট নার্সকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিশারাবাড়ি এলাকার দুই শিশু আব্দুল্লাহ (৪) ও খাদিজা (৩) বিড়ালের কামড়ে আহত হলে শুক্রবার (৫ জুন) রাতে তাদের চাচা সাব্বির কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জলাতঙ্ক প্রতিরোধের টিকা প্রয়োগের সময় দায়িত্বরত নার্স মোর্শেদা আক্তার দুই শিশুর জন্য ২০০ টাকা দাবি করেন। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কর্তব্যরত নার্স তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে রোগী ও স্বজনদের আটকে রাখার মতো ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। এতে ওই নার্সের কক্ষে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এদিকে ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সচেতন মহলে নানা সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, নার্স রোগীর স্বজনদের উদ্দেশে বলেন, ‘১০০ টাকা কি আপনার জন্য বেশি হয়ে যায়? আপনি দেন দেন বলছেন, আমি তো ভাবছি আপনি টাকা দেবেন। কিন্তু কেন আপনি টাকা দিচ্ছেন না?’ এ নিয়ে তিনি রোগী স্বজনদের সাথে সৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
ভুক্তভোগী রোগী শিশুদের চাচা সাব্বির বলেন, ‘ভাতিজা ও ভাতিজিকে বিড়াল কামড় দিলে রাতে হাসপাতালে নিয়ে যাই। শুরুতে টিকা দিতে কিছুটা অনীহা ছিল। পরে অনুরোধ করার পর টিকা দেওয়া হয়। টিকা দেওয়ার পরই তিনি টাকা দাবি করেন। আমরা টাকা দিতে রাজি না হলে, তিনি বিভিন্ন ধরনের আজেবাজে কথা বলতে থাকেন। এক পর্যায়ে সে বলেন, ‘‘আমি এখান থেকে চলে যাবো। স্যারকে বলেন আমাকে বদলি করে দিতে’’।’
অথচ সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে বা নির্ধারিত নিয়মে সেবা প্রদান করার বিধান রয়েছে। রোগীর সঙ্গে নার্সের ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। রোগীরা বলছেন, জরুরি চিকিৎসাসেবায় অর্থ দাবি করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
অভিযুক্ত নার্স মোর্শেদা আক্তারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলো কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, সরকারি হাসপাতালে রোগীর কাছ থেকে কোনও ধরনের টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট নার্সকে শোকজ ও দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. নোমান মিয়া বলেন, ‘অভিযুক্ত নার্সকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয়েছে। তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া তার আচরণের ভিডিওটি দেখেছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নার্সিং ইনস্টিটিউট অধিদফতরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। নার্সের আচরণ রোগীর সঙ্গে কোনোভাবেই দায়িত্বশীলতার মধ্যে পড়ে না। স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য ক্ষতিকারক বিষয়। আমরা বিষয়টি কঠোরভাবে দেখছি। তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’