সাড়ে চার মাস পর ৩১ নাবিক নিয়ে হরমুজ পার হয়েছে ‘বাংলার জয়যাত্রা’

দীর্ঘ সাড়ে চার মাস পারস্য উপসাগরে ৩১ নাবিক নিয়ে আটকে থাকা রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ অবশেষে হরমুজ প্রণালি পার হতে সক্ষম হয়েছে। 

রবিবার (২২ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় জাহাজটি সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডোর মাহমুদুল মালেক বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘সফলভাবে জয়যাত্রায় জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। বর্তমানে জাহাজটি জ্বালানি গ্রহণ (বাঙ্কারিং) এবং জাহাজের তলদেশ পরিষ্কারের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। এরপর জাহাজটির গন্তব্য হবে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দর। জাহাজটি সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই কঠিন সময়ে প্রধানমন্ত্রী, নৌপরিবহন উপদেষ্টা, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্ব, দিকনির্দেশনা ও সার্বক্ষণিক তদারকির জন্য বিএসসি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে। তাদের আন্তরিক সহযোগিতা ও উদ্বেগের কারণে জাহাজের নাবিকরা মনোবল অটুট রাখতে সক্ষম হয়েছেন। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার এই ঘটনা বাংলাদেশের সামুদ্রিক ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

এর আগে ৮ ও ১৭ এপ্রিল দুই দফা জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। 

বিএসসি সূত্র জানিয়েছে, ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজটি ২৭ ফেব্রুয়ারি কাতারের মেসাইয়িদ বন্দর থেকে ৩৮ হাজার ৮০০ টন স্টিল কয়েল নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দরে পৌঁছায়। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পরদিন ওই বন্দরের ১০ নম্বর জেটিতে ভেড়ে সেটি। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হলে পণ্য খালাস বিলম্বিত হয়। পরে পণ্য গত ১১ মার্চ জেবেল আলি বন্দরে জাহাজটি থেকে পণ্য খালাস শেষ হয়।  

এর আগে, ২০২২ সালের ১ মার্চ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরের কাছে আটকে পড়া বিএসসির জাহাজ এমভি ‘বাংলার সমৃদ্ধি’ বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এক বাংলাদেশি নাবিক নিহত হন। পরে জাহাজটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে বিএসসি।

জানা গেছে, ২০১৮ সালে বিএসসির বহরে যুক্ত হয় বাল্ক ক্যারিয়ার ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। ৩৯ হাজার টন ধারণক্ষমতার জাহাজটি নির্মাণ করে চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি)। চীন সরকারের সঙ্গে যৌথ অর্থায়নে জাহাজটি কেনা হয়েছিল।