প্যারোলে মুক্তি পেয়ে হাতকড়া পরে মায়ের জানাজা ও দাফনে অংশ নিয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম খন্দকার।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বেলা ২টার দিকে জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে পুলিশ পাহারায় মায়ের জানাজায় অংশ নেন তিনি। উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের নুরপুর দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে বিকাল ৫টার দিকে কারাগারে নেওয়া হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. মজিবুর রহমান মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ মে রাজনৈতিক একটি মামলায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শাহ আলম খন্দকারকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। কয়েকদিন আগে মা হালিমা বেগম (৭৫) কারাগারে ছেলেকে দেখতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নুরপুর পূর্বপাড়ার নিজ বাড়িতে মারা যান হালিমা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন বলে জানান স্বজনরা।
শেষবারের মতো মাকে দেখতে ও জানাজায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে প্যারোলে মুক্তি চেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করে পরিবার। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এহসান মুরাদ মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেন। বেলা ২টার দিকে পুলিশের পাহারায় মায়ের জানাজায় নিয়ে আসা হয়। এরপর জানাজা ও দাফন শেষে বিকাল ৫টার আগেই তাকে আবার কারাগারে নেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বেলা ২টার দিকে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। হাতকড়া পরানো অবস্থায় শাহ আলম খন্দকার জানাজায় অংশ নেন। পরে পারিবারিক কবরস্থানে মায়ের লাশ দাফনে অংশ নেন।
জানাজা শেষে শাহ আলম খন্দকার তার মায়ের রুহের মাগফিরাত কামনা করে সবার কাছে দোয়া চান। জানাজায় উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি কারাগারে থাকায় মায়ের সেবা করতে পারিনি, এটাই হচ্ছে আমার সবচেয়ে বড় দুঃখ। কয়েকদিন আগে কারাগারে আমাকে দেখতে গিয়ে মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর মৃত্যু হলো। তবে জানাজায় আসতে পেরেছি এটাই আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। আপনারা আমার মায়ের জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন মাকে জান্নাতবাসী করেন।’
আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পান শাহ আলম খন্দকার। এরপর মায়ের জানাজায় অংশ নেন। নিয়ম অনুসারে পুলিশ পাহারায় ছিল। তার হাতে হাতকড়া ছিল। পরে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।’