৭ ঘণ্টা পরিবার নিয়ে ট্রেনের ভেতরে আটকা, মেয়েটা অসুস্থ হয়ে পড়েছে

টানা বৃষ্টিতে রেললাইনের ওপর পানি জমে থাকায় ৮০০ যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহরে দীর্ঘ সাত ঘণ্টা ধরে আটকে আছে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন ট্রেনে থাকা শিশু-বৃদ্ধসহ যাত্রীরা। ট্রেনটি কখন যাত্রা শুরু করবে, সে বিষয়ে কিছু বলতে পারছেন না রেলওয়ের কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ট্রেনটি আটকে আছে। চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে রেললাইন ডুবে যাওয়ায় ট্রেনটি গন্তব্যে যেতে পারেনি। প্রথমে মুরাদপুর সুন্নিয়া মাদ্রাসার সামনে আটকে থাকলেও পরে সেখান থেকে সরিয়ে ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশনের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে কবে নাগাদ ট্রেনটি ষোলশহর স্টেশন থেকে কক্সবাজারে যাবে তা বলতে পারছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা। 

স্ত্রী সন্তান নিয়ে পর্যটক এক্সপ্রেসে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে যাচ্ছিলেন আবদুর রহিম। তিনি জানিয়েছেন, সাত ঘণ্টা ধরে পরিবার নিয়ে ট্রেনের ভেতর আটকে আছি। এভাবে থাকা অত্যন্ত কষ্টকর। ৯ বছরের মেয়েটা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় ট্রেনে কক্সবাজার যেতে পারবো কিনা, তা বুঝতে পারছি না।

ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার আরিফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন ষোলশহর স্টেশন অতিক্রম করে বেলা ১২টা ৩২ মিনিটে। এই স্টেশন থেকে সামান্য দূরে সুন্নিয়া মাদ্রাসার সামনে গেলে ট্রেনটি থামিয়ে দেওয়া হয়। কারণ সামনে রেললাইন পানিতে ডুবে গেছে এবং গাছ ভেঙে পড়েছে। বিকালের মধ্যে রেললাইন থেকে গাছ অপসারণ করা হয়। তবে রেললাইন থেকে এখনও পানি নেমে যায়নি। এ কারণে পরবর্তীতে নিরাপত্তাজনিত কারণে সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকা থেকে ট্রেনটি পুনরায় পেছনের দিকে ষোলশহর স্টেশনে নিয়ে এসে থামিয়ে রাখা হয়েছে। কবে নাগাদ ট্রেন ছেড়ে যাবে তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। রেললাইন থেকে পানি নেমে গেলে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।’

তিনি জানিয়েছেন, পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটিতে ৮০০ জন যাত্রী আছেন। বিকাল ৪টা পর্যন্ত ট্রেনটি সুন্নিয়া মাদ্রাসার সামনে থেমে ছিল। এরপর ষোলশহর স্টেশনের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। 

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৩২ মিনিটে ট্রেনটি ষোলশহর স্টেশন এলাকা অতিক্রম করছিল। এ সময় ভারী বৃষ্টির ফলে রেললাইনের ওপর পানি জমে যায়। ইঞ্জিনে পানি প্রবেশ করে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে চালক ট্রেনটি থামিয়ে দেন। এরপর থেকেই আটকে পড়ে আছে।

ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে যাত্রা শুরু করে বিকাল পৌনে ৩টায় কক্সবাজার পৌঁছার কথা ছিল পর্যটক এক্সপ্রেসের।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁঞা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রেললাইনে পানি এবং কয়েকটি স্থানে গাছ ভেঙে পড়ার কারণে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকায় থামিয়ে দেওয়া হয়। রেললাইন সচল হলে এটি ছেড়ে যাবে।’