চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলায় একটি আবাসিক হোটেল থেকে এক পুলিশ কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই কক্ষের দরজার কাছ থেকে তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তারকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। সোমবার (১০ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বড়তাকিয়া বাজারের ‘হোটেল রিলেক্স জোন’ আবাসিকের ১০৪ নম্বর কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত পুলিশ কর্মকর্তার নাম আমিনুল ইসলাম (৩২)। তিনি মীরসরাইয়ের মায়ানি ইউনিয়নের পশ্চিম মায়ানি গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে এবং রাঙামাটি জেলা পুলিশ লাইনসে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রীর নাম তাহমিনা আক্তার (২৭)। এই দম্পতির দেড় বছর বয়সী একটি মেয়েসন্তান রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সন্তানকে নিয়ে তাহমিনা আক্তার মীরসরাইয়ের জোরারগঞ্জে তার বাবার বাড়িতে ছিলেন। কর্মস্থল থেকে ছুটিতে এসে কয়েক দিন আগে সেখানে ওঠেন আমিনুল। রবিবার সকালে বাচ্চার জন্মনিবন্ধন করার কথা বলে সেখান থেকে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বের হন তিনি। বেলা ২টার দিকে আবাসিক হোটেলটিতে ওঠেন। আজ সকালে ডাকাডাকির পরও ভেতর থেকে সাড়াশব্দ না পেয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দেয়। এরপর পুলিশ কক্ষের ভেতরে ঢুকে দেখে ফ্যানের সঙ্গে আমিনুলের মরদেহ ঝুলছে। পাশে তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তারও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। শিশুসন্তানটিও পাশে রয়েছে। পুলিশ তাহমিনাকে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
মীরসরাই উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মেহের নিগার বলেন, ‘তাহমিনা আক্তার নামের ওই নারীর মুখ, ঠোঁট ও জিব ফোলা ছিল। মুখও বাঁকানো ছিল। নাক দিয়ে রক্ত ঝরছিল। গলায় কোনও কিছু দিয়ে শক্ত করে পেঁচিয়ে রাখার দাগও দেখা গেছে। জ্ঞান থাকলেও ওই নারী কোনও কথা বলতে পারছিলেন না। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে তাকে।’
নিহত পুলিশ কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামের বড় ভাই মো. আবুল হাসান বলেন, ‘আমি চট্টগ্রাম শহরে একটি পোশাক তৈরির কারখানায় কাজ করি। দুই বছর আগে ভাইয়ের বিয়ে হয়। এরপর থেকে স্ত্রী তাহমিনা আক্তারের সঙ্গে আমার ভাইয়ের দাম্পত্য কলহ লেগে ছিল। এসব নিয়ে স্থানীয়ভাবে অনেক সালিশ দরবার হয়েছে, কিন্তু সংসারে সুখ আসেনি। ভাইয়ের এমন পরিণতি হবে, তা কখনও ভাবিনি আমরা।’
হোটেল ব্যবস্থাপক মো. সোহান জানান, রবিবার দুপুরে তারা কক্ষটি ভাড়া নেন। বিকাল ও রাতে দুবার তাদের বাইরে যেতে দেখা গেছে। সোমবার সকালে ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া না পেয়ে বিষয়টি অন্যদের জানান তিনি। দীর্ঘক্ষণ পর ভেতর থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় স্ত্রী দরজা খুলে দেন। পরে ভেতরে গিয়ে খাটের পাশে ফ্যানের সঙ্গে আমিনুল ইসলামকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়।
এ বিষয়ে জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (মীরসরাই সার্কেল) নাদিম হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় স্ত্রীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। একই কক্ষ থেকে পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ১০ মাসের শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় পাওয়া গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমিনুল ইসলামের মৃত্যুর কারণ এবং তার স্ত্রী কীভাবে আহত হয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনও ঘটনা- তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে।’