গণভোটের রায় উপেক্ষা করার কোনও সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল। আমার বড় আফসোস হয়, দুঃখ হয় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সন্তানের জন্য। মনে হচ্ছে তিনিও যেন শেখ হাসিনার পদাঙ্ক অনুসরণ করে বিপদজনক পথে যাত্রা শুরু করেছেন। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড দেবেন ভালো কথা। কিন্তু জনগণের অধিকার হরণ করে নয়। তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ যে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে তা ভেঙে দিয়ে সমস্যার সমাধান করুন। যদি ব্যর্থ হন মনে রাখবেন উন্নয়নের গল্প শুনিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি শেখ হাসিনার। দেশের মানুষ ঝাড়ুপেটা দিয়ে দেশের সীমানার বাইরে ফেলে দিয়ে আসছে।’
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘মানুষের পকেটে আর একটা কার্ড আছে। মনে রাখবেন; সেটা হলো লাল কার্ড। আমরা সরকার পতনের জন্য লংমার্চ করছি না; সতর্ক করার জন্য করছি। ৭০ ভাগ মানুষ গণভোটে হ্যাঁয়ের পক্ষে ভোট দিয়েছে। আপনারা ৫০ শতাংশ ভোট পেয়েছেন, তাও মেকানিজম করে। তাতেই ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটকে অবৈধ ঘোষণা করছেন। আপনাকে কে এই দুঃসাহস দিয়েছে। জনগণের রায় অস্বীকার করা হলে জনগণকে অসম্মান করা হয়। ভালো ভালোই সংস্কার করেন। গণভোট যদি অবৈধ হয়ে থাকে, গণভোটের আদেশ যদি অবৈধ হয়ে থাকে তাহলে আপনার সরকারও অবৈধ, সংসদও অবৈধও অবৈধ।’
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আমির আলাউদ্দিন শিকদারের সভাপতিত্বে ও মীরসরাই উপজেলা জামায়াতের আমির নুরুল কবিরের সঞ্চালনায় পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
মামুনুল হক আরও বলেন, ‘আমরা পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, গণভোট অবৈধ হলে অপর নির্বাচনটি বৈধ হতে পারে না। সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের ভোটও অবৈধ। তারা বাংলাদেশের মানুষকে হাইকোর্ট দেখানোর চেষ্টা করছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা না হলে বিএনপিকে চূড়ান্তভাবে লাল কার্ড দেখানো হবে।’
পথসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির সদস্যসচিব আকতার হোসেন এমপি প্রমুখ।