ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত শুধু ভাষার ইতিহাস নন, বাংলাদেশের ইতিহাস ও জ্বলন্ত নক্ষত্র

নবগঠিত শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্মৃতি সংরক্ষণ ও পাঠাগার বাস্তবায়ন পরিষদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার মুন্সেপ বাড়ির মনির টাওয়ারের কনফারেন্স রুমে কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী ও কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবুর উপস্থিতিতে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

অনুষ্ঠানে নবগঠিত শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্মৃতি সংরক্ষণ ও পাঠাগার বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ড. শাহ মোহাম্মদ সেলিমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু।

মতবিনিময় সভা প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী

বক্তব্যে প্রধান অতিথি মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের ভাষা ও এর ইতিহাস সম্পর্কে জানাতে হবে। বাংলা ভাষা কত রূপ, কত রস, কত নান্দনিক সৌন্দর্যে মোড়ানো তা জানাতে হবে আমাদের আগামী প্রজন্মকে।

এ সময় তিনি বলেন, ভাষাসৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত শুধু ভাষার ইতিহাস নন, বাংলাদেশের ইতিহাস ও এক জ্বলন্ত নক্ষত্র। তার আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাস যদি নতুন প্রজন্মকে না জানানো যায় তাহলে তারা পথভ্রষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। তাই ভাষাকে আধুনিক প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে কুমিল্লায় ভাষা কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। সেখানে ভাষার ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্বলিত বই থাকবে। এছাড়াও এই পাঠাগার থেকে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা

বক্তব্যে এমপি মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, আমরা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের অবহেলিত বাড়িটিকে ইতিহাসের সাক্ষী করতে চাই। তাই সেই বাড়িতেই আমরা পাঠাগারটি স্থাপনের পরিকল্পনায় সরকারের কাছে সহযোগিতা চাওয়া হবে। সেই বিষয়ে সরকারও আশা করি তৎপর থাকবে।

সভাপতির বক্তব্যে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শাহ মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ১৯৪৮ সালের পর ভাষা সৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে নিয়ে তেমন কোনও আলোচনা হয়নি। অথচ তিনিই প্রথম পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি তুলেছিলেন। আমরা ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে হারিয়ে যেতে দেব না। তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ। তিনি বাংলা ভাষার ও ইতিহাসের অংশ।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন– সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মুজাহিদ চৌধুরী, শ্যামল কৃষ্ণ সাহা, অধ্যক্ষ তাপস বকসী, মাহবুবুল আলম চপল, অধ্যক্ষ বিধান চন্দ, আতিক সেলিম রুবেল, সুব্রত চৌধুরী তপু, ড. জে এন লিলি, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতাহের হোসেন বাবুল, অধ্যক্ষ ইমদাদুল হক পলাশ, নারী নেত্রী শাহানা হক, শেখ ফরিদ আহমেদ, অচিন্ত দাস টিটু, অধ্যাপক রাহুল তারুন, বীর মুক্তিযোদ্ধা বশীরুল আনোয়ার প্রমুখ।