১২৬ বছর ধরে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের শিক্ষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সভ্যতার ধারক-বাহক হিসেবে দ্যুতি ছড়াচ্ছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ। এটিকে বলা হয় দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত এই সরকারি কলেজ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। শিক্ষা-সংস্কৃতির পাশাপাশি এটি সবার কাছে দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিত।
৩১ হাজার শিক্ষার্থীর ক্যাম্পাস
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের দুটি শাখা। উচ্চমাধ্যমিক শাখা কুমিল্লা শহরের প্রাণকেন্দ্র কান্দিরপাড়ে। আর ডিগ্রি শাখা শহরতলির ধর্মপুরে অবস্থিত। কলেজের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে উচ্চমাধ্যমিক শাখার পুরোনো ফটক ও শহীদ মিনার। কলেজে বর্তমানে প্রায় ৩১ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। তাদের জন্য রয়েছে চারটি আবাসিক হল। পরিবহনের জন্য আছে মাত্র দুটি বাস। শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১৭৫ জন শিক্ষক। এখানে ২২টি বিষয়ে স্নাতক ও ১৮টি বিষয়ে স্নাতকোত্তর পড়ার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে ১২টি সক্রিয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
ভিক্টোরিয়া কলেজে বৃহত্তর কুমিল্লার প্রথম শহীদ মিনার
সৃষ্টির শুরু থেকেই বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চলের মানুষের অন্যতম প্রত্যাশার কেন্দ্র ছিল ভিক্টোরিয়া কলেজ। বৃহত্তর কুমিল্লার প্রথম শহীদ মিনারও নির্মাণ করা হয় এই কলেজে। ১৯৫৩ সালে রাতের আঁধারে উচ্চমাধ্যমিক শাখায় এ শহীদ মিনার স্থাপন করা হয়।
কলেজ কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, ১৯৫৩ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত অস্থায়ী শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানো হতো। ১৯৬৩ সালে পাকিস্তানি শাসকদের বৈরিতা উপেক্ষা করে একটি স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। শহীদ মিনারের কালো স্তম্ভটি ১৯৬৩ সালে নির্মাণ করা হয়।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী শহীদ মিনারটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়। তৎকালীন অধ্যক্ষ মো. সিরাজুল ইসলাম শহীদ মিনারটি বর্তমান বিজ্ঞান ভবন সংলগ্ন পুকুরে (বর্তমানে ভরাটকৃত) সংরক্ষণ করেন। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সেটি পুকুর থেকে উত্তোলন করে কলেজের উচ্চমাধ্যমিক শাখার ফটকের সামনে বর্তমান স্থানে স্থাপন করা হয়।
কলেজের শিক্ষক পরিষদ সম্পাদক গাজী মুহাম্মদ গোলাম সোহরাব হাসান জানান, ১৯৮৮ সালে কুমিল্লা টাউন হল মাঠসংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার তৈরি করা হয়। এর আগে ভিক্টোরিয়া কলেজের শহীদ মিনারটিকেই কুমিল্লার সর্বস্তরের মানুষ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার হিসেবে সংস্কৃতিচর্চার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহার করতেন। ২০১০ সালে ডিগ্রি শাখার কলা ভবনের সামনে প্রশস্ত জায়গায় আরেকটি শহীদ মিনার তৈরি করা হয়। ২০১৬ সালে উচ্চমাধ্যমিক শাখার শহীদ মিনারটির মূল স্তম্ভ অবিকৃত রেখে সংস্কার করা হয়।
কীর্তিমানদের তীর্থভূমি
কুমিল্লার ইতিহাস গবেষক, সাবেক শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা ও বর্তমান শিক্ষকদের সূত্রে জানা গেছে, ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং গণ-অভ্যুত্থানেও অসামান্য অবদান রেখেছেন এই কলেজের শিক্ষার্থীরা।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৯২১ থেকে ১৯২৩ সাল পর্যন্ত কুমিল্লায় অবস্থান করেছিলেন। তার সময় কাটানো ও কবিতা লেখার স্থানটি ছিল ভিক্টোরিয়া কলেজের সামনেই রানির দিঘির পশ্চিম পাড়ে। কলেজছাত্রদের সঙ্গে তার ছিল দারুণ সখ্য। আড্ডা ও গান গাওয়া ছিল তখন রোজকার ব্যাপার।
১৯২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কলেজ প্রাঙ্গণে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। উপমহাদেশের কিংবদন্তি শিল্পী শচীন দেববর্মন, ভাষা আন্দোলনের সৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত, জাতীয় পতাকার রূপকার শিবনারায়ণ দাসও এই কলেজের ছাত্র ছিলেন। আধুনিক গানের যুবরাজ-খ্যাত শিল্পী আসিফ আকবরও এই কলেজের শিক্ষার্থী। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কর্মকর্তাদের অনেকে এই কলেজের কাঠের বেঞ্চিতে বসেই উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতকের গণ্ডি পেরিয়েছেন। বর্তমান সংসদের অনেক সদস্যও এই কলেজের ছাত্র ছিলেন।
যেভাবে সৃষ্টি
দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠখ্যাত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ এক শতকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের শিক্ষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সভ্যতার ধারক ও বাহক। এই সুখ্যাতির পেছনে রয়েছে কলেজটির সুদীর্ঘ সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য।
তৎকালীন জমিদার রায় বাহাদুর আনন্দচন্দ্র রায়ের উদ্যোগে ১৮৮৬ সালে ‘রায় এন্ট্রাস স্কুল’ নামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৮৮ সালে মহারানি ভিক্টোরিয়ার রাজত্বের ৫০ বছরের সুবর্ণজয়ন্তীর স্মারক হিসেবে নাম পরিবর্তন করে ‘ভিক্টোরিয়া স্কুল’ করা হয়। বর্তমানে স্কুলটির নাম ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট স্কুল।
স্কুলটির সাফল্য ও পূর্ব ভারতে ক্রমবর্ধমান উচ্চশিক্ষার চাহিদা বৃদ্ধি পেলে ১৮৯৯ সালে জমিদার রায় বাহাদুর আনন্দচন্দ্র রায় রানি ভিক্টোরিয়ার নামে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। কলেজ প্রতিষ্ঠার পর ব্রিটিশ সরকার তাকে ‘রায় বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করে।
কলেজটির শিক্ষার্থীরা সমাজের সব মহলেই রয়েছেন। শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হিসেবে পরিচিত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ সৃষ্টিলগ্ন থেকেই। ২০১৭ সালে জাতীয়ভাবে কলেজ পারফরম্যান্স র্যাংকিং অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ। চট্টগ্রাম বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম সেরা পাঁচ কলেজের ক্যাটাগরিতেও প্রথম স্থান অধিকার করে এই কলেজ।
১২৬ বছরের পুরোনো এই কলেজের রয়েছে বর্ণাঢ্য ইতিহাস। তিতাশ চৌধুরী লিখেছেন, ‘প্রাচীনত্বের বিচারে এই কলেজটি বুড়োদের দলেই পড়ে।’ মূলত এই কলেজই ছিল এই অঞ্চলের অন্ধকার যুগের শিক্ষা-সংস্কৃতি, ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। তবে পাকিস্তান সৃষ্টির পর এই কলেজের নাম পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়েছিল। ‘ভিক্টোরিয়া’ শব্দটি ছেঁটে ফেলার চিন্তা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি।
ছাত্র থেকে শিক্ষক, আবার সেই ক্যাম্পাসেই
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্র ছিলেন, পরে শিক্ষক হয়ে এই কলেজেই ফিরেছেন—এমন ঘটনা কলেজের প্রায় প্রত্যেক বিভাগেই আছে।
বাংলা বিভাগের প্রভাষক ইমাম হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি কলেজের বাংলার ছাত্র ছিলাম। এই কলেজের ইতিহাস সম্মানের। খুব প্রত্যাশা ছিল শিক্ষা ক্যাডার হলে প্রাণের ক্যাম্পাসে ফিরবো। এখন অনুভূতি কীভাবে প্রকাশ করবো জানি না। এমন অনেক শিক্ষক আছেন, যারা পূর্বে কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।’
কলেজের সাবেক ছাত্র ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক গোলাম জিলানী বলেন, ‘যুগের চাহিদার নিরিখে শিক্ষার গুণগত মানে প্রিয় প্রতিষ্ঠানটি এগিয়ে যাচ্ছে। আধুনিক অবকাঠামো ও ডিজিটাল সুবিধার পরিধি আরও বৃদ্ধি পেয়ে প্রিয় এই ক্যাম্পাসটি হোক জ্ঞানচর্চার বাতিঘর। সেই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধন সুদৃঢ় হোক এবং আদর্শ ও নৈতিকতায় উজ্জীবিত হোক।’
কলেজের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনুস মিয়া বলেন, ‘আমি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক শাখারও ছাত্র ছিলাম। এই কলেজের আঙিনায় বসে পড়াশোনা করেছি। এখন নিজেও শিক্ষকতা করি। যেন নিজের ঘর। কলেজের সম্মান বাড়াতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী যুগে যুগে শিক্ষক হয়ে এসেছেন। তবে আমাদের সময় থেকে এখন অনেক আধুনিকায়ন হয়েছে সবকিছু।’
ইতিহাসের অংশ হলেও আছে নানা সংকট
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষক সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। ১৮৯৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর ১২৬ বছরেও কাটেনি এই সংকট। বছরের পর বছর পদ সৃষ্টি না হওয়ায় শিক্ষক সংকট থেকেই যাচ্ছে। কোনও বিভাগে একজন শিক্ষক, আবার কোথাও ২ থেকে ৪ জন শিক্ষক দিয়ে চলছে কার্যক্রম। কিছুটা আশার আলো দেখা গেলেও শিক্ষক পদ সৃজনের একটি আদেশ আবার স্থগিত হয়ে যায়। ফলে কলেজটির শিক্ষক সংকট যেমন দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে, তেমনি শিক্ষার মান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
কলেজের প্রশাসনিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৩১ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন ১৭৫ জন। প্রত্যেক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ইংরেজি ও স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস বিষয় দুটি আবশ্যক। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস বাংলা বিভাগের শিক্ষকেরা পড়ান। বাংলা বিভাগে শিক্ষক সংকট তেমন না থাকলেও ইংরেজি বিভাগে শিক্ষক নেই বললেই চলে।
ইংরেজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. মাহাবুবুশ শামস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের উচ্চমাধ্যমিক ও ডিগ্রি শাখায় হাজার খানেক শিক্ষার্থী। শিক্ষক মাত্র ৮/৯ জন। আমরা সবাই মিলে ক্লাস নিয়েও হাঁপিয়ে যাই। এর মাঝে আছে অন্য বিভাগগুলোর আবশ্যক ইংরেজি বিষয়। যা আমাদের আরও বেশি চাপে ফেলে দেয়। তাই অন্য বিভাগের শিক্ষকরা গেস্ট টিচার আনেন। আমরা প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। মন্ত্রণালয়ে তা প্রক্রিয়াধীন আছে। আশা করি শিগগিরই এই সমস্যার সমাধান হবে।’
এদিকে কোনও শিক্ষক ছাড়াই চলছে ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগ। বিভাগটির প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী থাকলেও নেই স্থায়ী শিক্ষক। হিসাববিজ্ঞান বিভাগের মাত্র দুই জন শিক্ষক দিয়ে এই বিভাগের কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সহযোগী অধ্যাপক মনির হোসেন বলেন, ‘আমরা হিসাববিজ্ঞানের শিক্ষক। কিন্তু আমাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগে দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থীর এই বিভাগে ক্লাস নিতে আমাদের অসুবিধা হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে হিসাববিজ্ঞানের শিক্ষকরা আমাদের কিছু ক্লাস নিচ্ছেন। যে কারণে আমরাও কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছি। আমরা বলেছি যেন দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। শুনলাম সেটি প্রক্রিয়াধীন।’
মাঝপথে আটকে আছে সমাধান
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের আগে পাঠানো একটি প্রস্তাবনায় ১১ নভেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা-৬ শাখা সম্মতি দেয়। সেখানে বাংলা বিভাগের আরও ৫ জন, ইংরেজি ৭, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে ১১, দর্শনে ১১, ইতিহাসে ১১, অর্থনীতিতে ৪, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ৪, সমাজকল্যাণে ১০, সমাজবিজ্ঞানে ৬, ব্যবস্থাপনায় ৪, হিসাববিজ্ঞানে ৪, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিংয়ে ১৬, মার্কেটিংয়ে ১৬, গণিতে ১০, পদার্থবিদ্যায় ৪, রসায়নে ৪, উদ্ভিদবিদ্যায় ১০, প্রাণিবিদ্যায় ১১, পরিসংখ্যানে ১৩ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে ৬ জনের সৃজিত পদের অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু এখনও ওসব পদের বিপরীতে শিক্ষক পদায়ন হয়নি।
এ ব্যাপারে কলেজ শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক গাজী মোহাম্মদ গোলাম সোহরাব হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরেই প্রস্তাবনা দিয়ে আসছি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কাজ শেষ করেছে। এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছি। আশা করি তা খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে।’
ক্যান্টিন ও পরিবহন সংকট
৩১ হাজার শিক্ষার্থীর কলেজে নেই কোনও ক্যান্টিন। তাই শিক্ষার্থীদের খাবার খেতে বেগ পেতে হয়। অনেকে ফুটপাতের খোলা ও অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। পরিবহন সংকটও তীব্র। শুরু থেকেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কলেজকে একটি বাস উপহার দেন। এ ছাড়া কলেজে সরকারি কোনও বাস নেই। ফলে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ওমর আলী আহসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাকে হোমনা থেকে আসতে হয়। কলেজের একটি ভাড়া বাস আমাদের নিয়ে আসে। মাঝে মধ্যে মাঝপথেই বিকল হয়ে যায় এটি। আর আমাদের একই উপজেলার কয়েক হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। মাত্র ৫০ জনের সিটে কি হাজার শিক্ষার্থীর চাহিদা পূরণ হয়?’
সহশিক্ষা কার্যক্রমেও এগিয়ে
শুধু পড়াশোনা নয়, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্যও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ঐতিহ্য রয়েছে। আন্তকলেজ ক্রিকেট, ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ কিংবা বিতর্ক প্রতিযোগিতা—এমন অনেক ক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব রয়েছে এই কলেজের।
সমৃদ্ধ ছাত্ররাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোও সক্রিয়ভাবে এখানকার শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল করে তুলেছে। এসব কার্যক্রম দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ সাংবাদিক সমিতি (কুভিকসাস)। তারা কলেজের সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি নতুন সংবাদকর্মী তৈরিতেও কাজ করছে।
যা বলছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ
কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ও গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক গাজী মুহাম্মদ গোলাম সোহরাব হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভিক্টোরিয়া কলেজ পরিবারে যুক্ত আছে লাখ লাখ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারী। এসব কিছুর নেপথ্যে রায় বাহাদুর আনন্দচন্দ্র রায়। যিনি কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেছেন। তবে যেহেতু শিক্ষার্থী বেশি এই কলেজের চাহিদাও বেশি। নানান সংকট আছে। আমরা সেগুলো নিরসনে কাজ করছি।’
উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন এই কলেজের ৫৫তম অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল বাসার ভূঁঞা বলেন, ‘ইতিহাস ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ বহু জ্ঞানীগুণীর বিদ্যাপীঠে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছি এটা আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের। দায়িত্ব নেওয়ার পর পরেই সাত বছর বন্ধ থাকা শিক্ষক পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করেছি। ভিক্টোরিয়ার অধ্যক্ষ হওয়ার পর সিদ্ধান্ত নিয়েছি শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই নয়, আমার লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মনোন্নয়ন। শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও নির্দেশনায় ঐতিহ্যের এই কলেজ আলোর দ্যুতি ছড়িয়ে দিচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়নের সিদ্ধান্তও নেওয়া হচ্ছে। ভিক্টোরিয়ার নান্দনিক ক্যাম্পাসের জলাবদ্ধতা একটি বড় সমস্যা। এ সমস্যা দ্রুত নিরসন ছাড়াও বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। সেগুলো ধাপে ধাপে সমাধান করে শিক্ষার্থীদের একটি যুগোপযোগী আধুনিক ক্যাম্পাস উপহার দেওয়ার লক্ষ্য আমার।’