বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে উচ্চস্বরে পড়া নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১০

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে উচ্চস্বরে পড়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ১০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে চার জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বর এলাকায় এ ঘটনার সূত্রপাত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে উচ্চস্বরে পড়াকে কেন্দ্র করে আইসিটি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সালমান পাটোয়ারী আবির ও ওমর ওসমানের সঙ্গে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর সাকিবের বাগবিতণ্ডা হয়। পরে লাইব্রেরি থেকে বের হওয়ার পর আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তানভীর সাকিব, ইংরেজি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের তাসিন এবং বাংলা বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের হামিদের হাতাহাতি হয়।

পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের প্রক্টর কার্যালয়ে ডাকা হয়। সেখানে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।

তবে প্রক্টর কার্যালয় থেকে বের হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে ফের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দেওয়া হলে তারা প্রকৌশল অনুষদে গিয়ে আশ্রয় নেন।

কিছুক্ষণ পর আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা পাল্টা ধাওয়া দিলে অপর পক্ষ শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে দত্ত হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ বাধে। এতে কমপক্ষে ১০ শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের মধ্যে চার জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

কুবি মেডিক্যাল সেন্টারের ডেপুটি চিফ মেডিক্যাল অফিসার ডা. মাহমুদুল হাসান খান বলেন, ‘মারামারিতে মোট ১০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।’

ঘটনার পর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এর মধ্যে বিকাল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দেন শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। প্রায় এক ঘণ্টা পর প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে আলোচনা শেষে তারা তালা খুলে দেন।

পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রক্টর কার্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের উপস্থিতিতে দত্ত হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে প্রক্টরিয়াল অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, দুপুরে ঘটনাটি একবার মীমাংসা করা হয়েছিল। কিন্তু প্রক্টর কার্যালয় থেকে বের হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা পুনরায় মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।