মাদকসেবীদের জামিন প্রসঙ্গে আইনজীবীদের জড়িয়ে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম। দুঃখ প্রকাশের পর আইনজীবীদের ডাকা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা স্থগিত করা হয়েছে। রবিবার (৪ অক্টোবর) সকালে লক্ষ্মীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সামনে ‘আইনজীবীদের ব্যানারে’ এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা ডাকা হয়েছিল।
একই ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিমকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে লিখিতভাবে ওই বক্তব্য প্রত্যাহার এবং আইনজীবী সমাজের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছিল। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
গত বুধবার লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার কচুয়া আহমদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার বার্ষিক ক্রীড়া পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম। এ সময় মাদকসেবীদের জামিন প্রসঙ্গে আইনজীবীদের জড়িয়ে বক্তব্য দেন তিনি। এ ঘটনায় পরদিন বৃহস্পতিবার জেলা জজ কোর্টের আইনজীবী ওমর ফারুক তুষারের পক্ষে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়।
নোটিশে অভিযোগ করা হয়, বুধবার রামগঞ্জ উপজেলার কচুয়া আহমদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম আইনজীবীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আইনজীবীরা রাতে দোয়া করেন যেন পরদিন দুই চার জন মাদকসেবীকে পেয়ে জামিন করিয়ে বাজার করে বাড়ি ফিরতে পারেন। আইনজীবীরা সামান্য টাকার বিনিময়ে মাদকসেবীদের জামিন করান।’
নোটিশে এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মনগড়া ও কুরুচিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে বলা হয়, বিচারব্যবস্থার অপরিহার্য অঙ্গ আইনজীবী সমাজকে নিয়ে একজন সংসদ সদস্যের এমন মন্তব্য একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধির আচরণ হতে পারে না। বিরোধী দলে থাকাকালে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মৌলিক অধিকার ও আইনি সুরক্ষায় আইনজীবীদের অবদান অনস্বীকার্য বলেও নোটিশে তুলে ধরা হয়। নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে লিখিতভাবে বক্তব্য প্রত্যাহার এবং আইনজীবীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেছেন, ‘আমি ঢালাওভাবে আইনজীবীদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিইনি। কিছু আইনজীবী মাদক ব্যবসায়ীদের পক্ষ নিয়ে জামিন করাচ্ছেন। তাদের উদ্দেশে বলেছিলাম, তারা যেন মাদকসেবীদের পক্ষে অন্তত তিনবার জামিন না চান। এটাই আহ্বান করেছিলাম। এখন আমার বক্তব্য প্রত্যাহার করে আইনজীবীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।’
জেলা জজ আদালতের এপিপি আবদুল আহাদ শাকিল বলেন, ‘আমরা কারও ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক বিরোধে আজকে মানববন্ধনের ডাক দিইনি। সংসদ সদস্য আইনজীবীদের নিয়ে যে মন্তব্য করেছিলেন, আমরা তার প্রতিবাদ জানাতেই আজ শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ ডেকেছিলাম। পরবর্তীতে তিনি তার বক্তব্যের কারণে আইনজীবীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকার কথা বলেছেন। আমরা সেটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছি। এজন্য মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ স্থগিত করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার- আইনজীবীরা কোনও অপরাধী বা মাদক কারবারির পক্ষে নন; আইনজীবীরা আইনের পক্ষে, ন্যায়বিচারের পক্ষে এবং সংবিধানসম্মত অধিকার রক্ষার পক্ষে। আদালতে কোনও আসামির পক্ষে আইনজীবী দাঁড়ানো মানেই সেই অপরাধকে সমর্থন করা নয়। এটি ন্যায়বিচার ব্যবস্থার মৌলিক অংশ। একজন জনপ্রতিনিধির বক্তব্য সমাজে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। তাই কোনও বক্তব্যে যেন একটি সম্পূর্ণ পেশাজীবী সমাজের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন না হয়, এটিই আমাদের প্রত্যাশা।’