৫ আগস্টের পর প্রত্যাহার হওয়া ম্যাজিস্ট্রেট হলেন দায়রা জজ, তা নিয়ে এজলাসে হট্টগোল

বগুড়া প্রতিনিধি
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:০২আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:০৩

বগুড়ায় দুই বছর আগে প্রত্যাহার হওয়া এক বিচারক পুনরায় জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে যোগ দেওয়ার পর তার আদালত বর্জনকে কেন্দ্র করে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের দুই পক্ষের মধ্যে হট্টগোল ও ধাক্কাধাক্কি এবং ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে এজলাসে যেতে হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় চলে যান বিচারক। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এজলাসের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে বিচারক মো. মনিরুজ্জামানের পদায়ন বাতিলের দাবিতে আদালতের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন আইনজীবীরা। জেলা আইনজীবী সমিতির ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে মো. মনিরুজ্জামানের পদায়ন বাতিলের দাবি জানানো হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বগুড়া আদালতের কর্মচারী ও আইনজীবীরা তৎকালীন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুজ্জামান এবং জেলা ও দায়রা জজ মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামেন। পরে দুজনকেই বগুড়া থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরবর্তী সময়ে জেলা ও দায়রা জজ মোজাম্মেল হককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। এর মধ্যে মনিরুজ্জামান জেলা ও দায়রা জজ পদে পদোন্নতি পেয়ে বগুড়ায় বদলির আদেশ পান। আজ তিনি বগুড়ায় যোগদান করে দুপুরে এজলাসে বসেন।

এ সময় বগুড়া বার সমিতির নেতারা তার আদালত বর্জনের ঘোষণা দিয়ে এজলাসে মামলার শুনানিতে বাধা দেন। তবে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের আরেকটি পক্ষ মামলার শুনানি চালিয়ে যেতে চাইলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে তারা ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বিচারক এজলাস ত্যাগ করেন। পরে আদালত পুলিশ এসে দুই পক্ষকে সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

বগুড়া অ্যাডভোকেটস বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মনিরুজ্জামান বগুড়ায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় আওয়ামী লীগ সরকারের আজ্ঞাবহ বিচারক হিসেবে কাজ করেছেন। বিএনপির নেতাকর্মীদের জামিন না দিয়ে মাসের পর মাস কারাগারে রাখার অভিযোগে ৫ আগস্টের পর আইনজীবী ও আদালতের কর্মচারীরা তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলেন।’

রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বগুড়া থেকে প্রত্যাহার হওয়ার পর তিনি সরকারদলীয় কোনও নেতাকে ম্যানেজ করে আবার বগুড়ায় জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে বদলির আদেশ নিয়েছেন—এমন খবর পেয়ে আমরা সংবাদ সম্মেলন করে তার বদলির আদেশ বাতিলের দাবি জানিয়েছিলাম। একই সঙ্গে তিনি বগুড়ায় যোগ দিলে আদালত বর্জনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।’

আইনজীবী নেতা বলেন, ‘আজ তিনি এজলাসে বসে মামলার শুনানি শুরু করলে আমরা সেখানে বাধা দিতে যাই। এ সময় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য ও শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহাবের নেতৃত্বে কয়েকজন জুনিয়র আইনজীবী আমাদের সঙ্গে হট্টগোলে জড়ান। একপর্যায়ে তারা বার সমিতির সভাপতি রেজাউর রহমানকে ধাক্কা দিয়ে এজলাস থেকে বের করে দেন।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও আইনজীবী আব্দুল ওয়াহাব জানান, আদালত বর্জনের কর্মসূচির সঙ্গে তারাও একমত ছিলেন। জেলা ও দায়রা জজ যোগদানের পর বার সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তার খাসকামরায় যান। পরে বিচারক এজলাসে বসেন।

আব্দুল ওয়াহাব বলেন, ‘একটি মামলার শুনানি শেষে বার সমিতির নেতারা এসে আবার বাধা দেন। আদালত বর্জনের কর্মসূচি থাকলে বার সমিতির নেতারা বিচারকের খাসকামরায় ঢুকলেন কেন? তারা বের হওয়ার পর বিচারক এজলাসে বসলে আমরা জুনিয়র আইনজীবীরা মামলার শুনানি শুরু করি। এরপর বার সমিতির নেতারা বাধা দিতে এলে হট্টগোল হয়।’

আব্দুল ওয়াহাব আরও বলেন, ‘তিন মাস ধরে বগুড়ায় জেলা জজ না থাকায় আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন। আইন মন্ত্রণালয় ও প্রধান বিচারপতির অনুমতিতে সরকার নতুন জেলা জজ পাঠিয়েছে। বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি লাঘবে আমরা শুনানিতে অংশ নিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু বার সমিতির সেক্রেটারি হট্টগোল সৃষ্টি এবং সাধারণ আইনজীবীদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেন। বিচারিক প্রক্রিয়া সচল রাখতেই আমরা শুনানিতে অংশ নিয়েছি।’

তবে বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলামের দাবি, বিচারকের খাসকামরায় তারা আদালত বর্জনের কর্মসূচির বিষয়টি তাকে জানাতে গিয়েছিলেন। বিচারক নিয়ম রক্ষার জন্য একটি মামলার শুনানি করে কার্যক্রম স্থগিত রাখবেন বলে জানান। তার সম্মানে একটি মামলার শুনানি করতে দেওয়া হলেও পরে আব্দুল ওয়াহাব একটি হত্যা মামলায় আসামির জামিন করান এবং আরও মামলার শুনানি শুরু করেন।

রফিকুল বলেন, ‘আমি ১৯৮৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল করেছি। বগুড়া জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সহসভাপতিও ছিলাম। এখনও সংগঠনটির উপদেষ্টা। অথচ আব্দুল ওয়াহাবের নেতৃত্বে কয়েকজন জুনিয়র আইনজীবী বার সমিতির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে এজলাসে হট্টগোল করেছেন এবং সভাপতিকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছেন।’

বগুড়া আদালত পুলিশের পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এজলাস কক্ষে আইনজীবীদের দুই পক্ষের মধ্যে হট্টগোল শুরু হলে পুলিশ গিয়ে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।’

/এএম/ 
সম্পর্কিত
এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর আত্মহত্যা: মামা ওবায়দুর কারাগারে
সংকটের মধ্যেও জনগণকে সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার: রিজভী
‘কীসের তদন্ত কর্মকর্তা আপনি? ছাত্রলীগকে ছাত্রদল লেখেন’
সর্বশেষ খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেফতার করতে গিয়ে পালাতে সহায়তার অভিযোগ, এসআই ক্লোজড
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেফতার করতে গিয়ে পালাতে সহায়তার অভিযোগ, এসআই ক্লোজড
আইপিএল নিলামের ভেন্যু চূড়ান্ত, এবার গোয়া
আইপিএল নিলামের ভেন্যু চূড়ান্ত, এবার গোয়া
সর্বাধিক পঠিত
আলোচিত সেই দুই হোটেল বন্ধের নির্দেশ
আলোচিত সেই দুই হোটেল বন্ধের নির্দেশ
ইসলামী ব্যাংকে পরীক্ষা ছাড়াই ৮ হাজার ৫৪২ নিয়োগ
ইসলামী ব্যাংকে পরীক্ষা ছাড়াই ৮ হাজার ৫৪২ নিয়োগ
‘আইনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে’ সাবেক পিপিকে থানায় নিয়ে গেলেন আইনজীবী নেতারা
‘আইনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে’ সাবেক পিপিকে থানায় নিয়ে গেলেন আইনজীবী নেতারা
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে জাতিসংঘ দূতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনা
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে জাতিসংঘ দূতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনা
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালককে স্ট্যান্ড রিলিজ
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালককে স্ট্যান্ড রিলিজ