রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে প্রেমিকাকে হত্যার দায়ে মাহিবুর রহমান মহিবুল্লাহ নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আহসান তারেক এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মাহিবুর রহমান নেত্রকোনার মদন উপজেলার কাইটাইল গ্রামের মনির উদ্দিনের ছেলে। তিনি কাপ্তাইয়ে ফার্নিচারের কাজ করতেন।
মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, কাপ্তাই নতুন বাজারে কাজ করার সুবাদে স্থানীয় হাসিনা বেগম সুমির (২৮) সঙ্গে মাহিবুরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সুমির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন মাহিবুর। পরে অন্যত্র তার বিয়ে ঠিক হলে সুমি তার কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে ২০২২ সালের ১১ মার্চ রাতে কাপ্তাই বিএফআইডিসি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভেতরে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মাহিবুর ইট দিয়ে সুমির মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে সিগারেটের আগুন দিয়ে লাশে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যান তিনি।
পরদিন ১২ মার্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের একটি পরিত্যক্ত টয়লেট থেকে সুমির পোড়া লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে কাপ্তাই থানায় হত্যা মামলা করেন।
পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত মঙ্গলবার মাহিবুরকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মাসুম বলেন, মামলাটি পরিচালনার জন্য শুরুতে আসামির পক্ষে কোনও আইনজীবী ছিলেন না। বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকে তিনি আসামির পক্ষে আইনি লড়াই করেছেন এবং আদালতে বিভিন্ন যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। তবে আসামি আগে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ায় আদালত এ রায় দিয়েছেন।
তিনি বলেন, আমরা এ রায়ে সংক্ষুব্ধ। আসামির সঙ্গে কথা বলে দ্রুত উচ্চ আদালতে আপিল করব। আশা করি, উচ্চ আদালতে আমরা ন্যায়বিচার পাবো।