গাজীপুরে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় বাসের হেলপার সুজন মিয়া (২৫) নিহতের ঘটনায় আড়াই বছর পর পলাতক চালক রাশেদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গাজীপুর। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিবিআই গাজীপুরের এসপি রকিবুল আক্তার।
গ্রেফতার রাশেদ (২২) নোয়াখালী সদর উপজেলার দিনমনিরহাট গ্রামের বেলাল উদ্দিনের ছেলে। রবিবার (৪ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সাভার থানার কলমা এলাকার উইন্টার পোশাক কারখানার সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার (৫ অক্টোবর) তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।
নিহত সুজন মিয়া কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি উপজেলার পেয়ারাকান্দি গ্রামের আয়েত আলীর ছেলে। তিনি ঢাকা-কিশোরগঞ্জ সড়কে চলাচলকারী অনন্যা ক্লাসিক পরিবহনের হেলপার ছিলেন। এ ঘটনায় নিহত সুজনের স্ত্রী সানজিদা আক্তার মিম বাদী হয়ে ওই দিনই গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) সদর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার তদন্ত শেষে সদর থানা পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। পরে আদালতের নির্দেশে চলতি বছরের ৯ এপ্রিল মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই গাজীপুর জেলা।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই গাজীপুরের এসআই জুয়েল হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের ২৪ জুন ভোরে অনন্যা ক্লাসিক পরিবহনের একটি বাসে কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন সুজন মিয়া। বাসটি সকাল ৭টার দিকে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ইউটার্ন এলাকায় (হোটেল এক্স সংলগ্ন) পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাভার্ড ভ্যান বাসটির সামনের অংশে ধাক্কা দেয়।
এ সময় বাসের বাম পাশের দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকা হেলপার সুজন গুরুতর আহত হন। পরে যাত্রীরা তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনায় দুই যানবাহনই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সড়কের ওপর উল্টে পড়ে। এ সময় কাভার্ড ভ্যানের চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্ঘটনার সঙ্গে রাশেদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। পরে বিশেষ তদন্ত দলের সদস্যরা তাকে শনাক্ত করে সাভারের কলমা এলাকার উইন্টার পোশাক কারখানার সামনে থেকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারের পর আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতেও তিনি ঘটনার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন।
পিবিআই গাজীপুরের এসপি রকিবুল আক্তার বলেন, সড়কে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি যানবাহনের মালিক-শ্রমিক ও নাগরিকদেরও সচেতন হওয়া জরুরি। এ ধরনের মৃত্যু কারও কাম্য নয়। গ্রেফতার চালককে বিধি অনুযায়ী আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার অন্যান্য দিক ও আলামত যাচাই করা হচ্ছে।