চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরিফুল আলমকে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তার পদত্যাগের দাবিতে সোমবার (১২ অক্টোবর ) রাতভর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করেন তারা। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালেও ক্যাম্পাসে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। উপাচার্যের পদত্যাগ ছাড়া সংকটের সমাধান হবে না বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
সোমবার সকালে প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে নিজের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরিফুল আলম। পরে শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন তিনি। দিনভর উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর রাতেও কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অব্যাহত ছিলো।
এর আগে, উপাচার্য ও তার সহযোগীদের ভবন ছেড়ে যাওয়ার জন্য সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা বের না হওয়ায় পূর্বঘোষণা অনুযায়ী প্রশাসনিক ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। এতে বিদ্যুৎবিহীন ভবনে উপাচার্যসহ বেশ কয়েকজন অবরুদ্ধ রয়েছেন। নবনিযুক্ত উপাচার্যের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত ভবনের তালা খোলা হবে না বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
সোমবার রাতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন রাউজানের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংছিং মারমা। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাকে জানান, উপাচার্যের পদত্যাগ ছাড়া চলমান সংকট নিরসনের আর কোনও পথ খোলা নেই।
গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন চুয়েটের শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবির মধ্যে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের বিষয়টিও রয়েছে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে তারা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ও শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন।
এদিকে, চুয়েটের চলমান সংকট নিরসন এবং শিক্ষার্থীদের বাসে হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে রাজধানীতে মানববন্ধনের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকাস্থ চুয়েটের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর শাহবাগ চত্বরে এ কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।