চট্টগ্রামে গ্যাসের ব্যবসা করা ব্যক্তি নোয়াখালীতে পেলেন সারের ডিলারশিপ

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ৮টি ইউনিয়নে ৮ জনকে সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। ৮ জনের মধ্যে কারও কারও নেই গুদাম, নেই দোকান, কেউ থাকতেন প্রবাসে, কেউ করেন চট্টগ্রাম শহরে গ্যাসের ব্যবসা।

৮টি সার ডিলার যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়েছে, এ নামে এলাকাগুলোতে কোনও দোকান নেই। এমন ব্যক্তিরাই এখন সরকারি খাতায় সারের ডিলার। সরেজমিনে গিয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সুপারিশে চূড়ান্ত করা এ ডিলাররা হলেন- সিরাজপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদ নগরের হোসেন এন্টারপ্রাইজের মালিক হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ, চরপার্বতী ইউনিয়নের চৌধুরী হাট এলাকার সালাম এন্টারপ্রাইজের মালিক আবু সুফিয়ান। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাস থেকে কিছুদিন আগে দেশে এসেছেন। তার কোনও সারের দোকান বা গুদাম নেই।

চরহাজারী ইউনিয়নের ডিলার মুদি দোকানি নজরুল স্টোরের মালিক নজরুল ইসলাম। তিনি এলাকায় মৌসুমি মাটি ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। তার কোনও সারের দোকান নেই। চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের কলাবাগান এলাকার ফাহিম এন্টারপ্রাইজের মালিক সাইফুল ইসলাম। তার কোনও সারের দোকান ও গুদাম নেই। চরফকিরা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব হাসান মাহমুদ শুভ তার মালিকানাধীন হাসান ট্রেডার্সের নামে ডিলারশিপ নিয়েছেন। তারও কোনও সার দোকান নেই।

রামপুর ইউনিয়নের ডিলার পেয়েছেন মোবাইল, কাপড়, জুতা, কসমেটিকস ও হার্ডওয়ার দোকানদার এনাম ট্রেডার্সের মালিক এনাম। মুছাপুর ইউনিয়নের ডিলার পেয়েছেন চট্টগ্রামের গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ী ভাই ভাই ট্রেডার্সের মালিক মাহবুব উল্লাহ সায়েম এবং চরএলাহী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা হক অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিক আমিনুল হক মাসুদ। তারও কোনও সারের দোকান ও গুদাম নেই। 
অভিযোগ ওঠেছে, ওইসব সার ডিলারগুলোর নামে কোনও দোকান ও প্রতিষ্ঠান না থাকলেও ইউনিয়ন পরিষদে টাকা দিয়ে অধিকাংশই ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স করে নিয়েছেন।

এ বিষয়ে চরপার্বতীর ডিলার আবু সুফিয়ান বলেন, আমার দোকান নেই, চাচাতো ভাইয়ের সারের দোকান আছে, ওখানে আমি বসি।

চরহাজারীর ডিলার নজরুল নিশ্চিত করেন তিনি মুদি দোকানি, চরফকিরার ডিলার হাসান মাহমুদ শুভ জানান, ডিলারশিপ পেয়েছেন এখন দোকান নেবেন।

রামপুর ইউনিয়নের ডিলার এনাম জানান, তার কোনও সার দোকান নেই।

মুছাপুর ইউনিয়নের ডিলার মাহবুব উল্লাহ সায়েম জানান, তিনি চট্টগ্রাম। সারের ডিলারশিপ নিয়েছেন, দোকান চালু করবেন।

চরএলাহী ইউনিয়নের ডিলার আমিনুল হক মাসুদ দাবি করেন, তাদের আগে সারের দোকান ছিল।

এদিকে সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মৌলভি বাজারের ব্যবসায়ী আবদুস সালাম তার ইউনিয়নে সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে সার ডিলার নিয়োগ করায় তা বাতিলের দাবি করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। 
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন, নিয়োগ করা ডিলার চট্টগ্রামে গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসা করার সুবাদে চট্টগ্রামেই বসবাস করেন। এলাকায় তার কোনও দোকান ঘর, গুদাম নেই। অভিযোগকারী একজন প্রকৃত সার ব্যবসায়ী, তার দোকানও আছে। তিনি দুই বছরের অধিক সময় সার, বীজ, কীটনাশকের ব্যবসা করে আসছেন। 
ডিলারের জন্য নিয়ম মেনে আবেদন করার পরও তিনি ডিলারশিপ না পেয়ে ভুয়া, অনুপযুক্তকে ডিলার করা হয়েছে বলে তা বাতিল করে নীতিমালা অনুযায়ী ডিলার নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।

চরকাঁকড়া ইউনিয়নের সিরাজ অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিক সিরাজ উল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে খুচরা সার, বীজ ও কীটনাশক বিক্রি করে আসছি। কিন্তু ডিলারশিপ নেওয়ার জন্য আবেদন করলেও আমার নাম অজ্ঞাত কারণে লিস্টে নাই। আর যাদের কোনও প্রতিষ্ঠানই নেই, তারাই সারের ডিলারশিপ পেলো!

এ বিষয়ে উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন বলেন, আমি নতুন এসেছি। ডিলার নিয়োগে যাচাই-বাছাই কমিটি আমি আসার আগেই তদন্ত করে প্রতিবেদন দিয়ে গেছে।