এক খুনের রহস্য উদ্ঘাটন করতে ২০০ সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখেছে পুলিশ

চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক আব্দুল নুর তুষার (২২) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে হাটহাজারী থানা পুলিশ। দুই শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ড ও ছিনতাই করা রিকশা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত মোট সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাই রিকশার তিনটি ব্যাটারি ও বডির অন্যান্য অংশ।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম। 

তিনি জানান, গত ১ অক্টোবর বিকাল সোয়া ৫টার দিকে হাটহাজারী থানাধীন চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের যোগীরহাট থেকে খন্দকিয়া বাজারগামী ইটের সলিং রাস্তার পাশে একটি বিলের পানিতে তুষারের গলায় রশি ও গামছা প্যাঁচানো লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে তার ব্যবহৃত অটোরিকশাটি পাওয়া যায়নি।

এসপি জানান, একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর বাড়ি বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকা থেকে শুরু করে হাটহাজারী পর্যন্ত দুই শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তদের চলাচলের পথ শনাক্ত করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, আসামিরা বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন কুলগাঁওয়ের সাদ-মুছা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির সামনে থেকে তুষারের অটোরিকশাটি ভাড়া নেয়। পরে নির্জন স্থানে নিয়ে রশি ও গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে লাশ পাশের বিলে ফেলে দেয়। এরপর অটোরিকশা ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।

তিনি জানান, পরবর্তী সময়ে ছিনতাই করা অটোরিকশাটি বিক্রির উদ্দেশে ঠাণ্ডাছড়ি এলাকায় নেওয়া হয়। সেখানে একটি অটোরিকশা ওয়ার্কশপে সেটি রাখা হয়। তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি রিকশাটি কেনাবেচার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদেরও শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

গত ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা থেকে ১৬ অক্টোবর রাত ১১টা পর্যন্ত চৌধুরীহাট, সন্দ্বীপ কলোনি ও ঠাণ্ডাছড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন- ইমরান হোসেন আপন (২৩), বাবলু (২৫), আকতার হোসেন (৩৬), মারুফ (২৫), গোলাপ মোস্তফা (৩৫) ও আলাউদ্দিন (২৫)।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার ইমরান হোসেন আপন জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ড ও অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে তথ্য দিয়েছে। এ ছাড়া অটোরিকশা কেনাবেচার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য গ্রেফতারদের কাছ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের দেখানো মতে আকতার হোসেনের গ্যারেজ থেকে ছিনতাই করা অটোরিকশার তিনটি ব্যাটারি ও বডির অন্যান্য অংশ উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর ভুক্তভোগীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সিমসহ ঠাণ্ডাছড়ি এলাকা থেকে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রাসেলকে (২৫) গ্রেফতার করা হয়।