মাথায় হেলমেট, হাতে বন্দুক: দোকানে ঢুকে ২০ সেকেন্ডেই ব্যবসায়ীকে গুলি

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় দোকানে ঢুকে জামায়াত কর্মী মো. মিজানুর রহমানকে গুলির ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার ১ নম্বর আমানউল্লাহপুর ইউনিয়নের জিনু মার্কেটে দোকানে ঢুকে তাকে গুলি করা হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। রবিবার দুপুরে ওই ঘটনার ভিডিও ফসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

মিজানুর রহমান মুদি দোকানি। ফেসবুকে ভাইরাল ভিডিওটিতে দেখা যায়, ছয়-সাত জন মুখোশধারী ব্যক্তি মিজানুর রহমানের মুদি দোকানের সামনে আসে। এর মধ্যে একজন মাথায় হেলমেট পরা ছিল। এদের মধ্যে দুজনের হাতে টর্চলাইট, অন্যদের হাতে বন্দুক দেখা যায়। ধীর পায়ে সামনে আসার পর হেলমেট পরা অস্ত্রধারী ব্যক্তি দোকানটিতে ঢুকে মিজানুরকে গুলি করে। এ সময় দোকানের সামনে পাহারায় ছিল অন্যরা। ২০ সেকেন্ডের মধ্যেই মিজানুরকে গুলি করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে দেখা যায় তাদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাশের একটি দোকানের সিসিটিভি ক্যামরায় ঘটনার এই ভিডিও চিত্রটি রেকর্ড হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভিডিওটি সংগ্রহ করেছে। ভিডিওটি পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামসুজ্জামান।

ওসি মোহাম্মদ শামসুজ্জামান বলেন, ‘ভিডিও দেখে এরই মধ্যে একাধিক অস্ত্রধারীর পরিচয় আমরা শনাক্ত করেছি। শিগগিরই তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে। শনিবার রাতের ওই ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশের অভিযান থেমে নেই। পুরো বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।’

জামায়াতে ইসলামীর বেগমগঞ্জ উপজেলা শাখার আমির আবদুজ জায়েদ বলেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের দুর্বৃত্তরা এ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। কোনও কারণ ছাড়াই রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় এ হামলা চালানো হয়েছে। এর আগেও মিজানুর রহমানের ওপর হামলা হয়েছিল।’

আমানউল্যাহপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও স্থানীয় বিএনপি নেতা বাহারুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান অত্যন্ত ভদ্র ও শান্ত একজন মানুষ। তার মতো একজন ভদ্র মানুষকে এভাবে গুলি করা হবে, এটা চিন্তাও করতে পারিনি। আমার ইউনিয়নে অবৈধ অস্ত্রধারীদের তৎপরতায় সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছেন। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে ও অস্ত্রধারীদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও কঠোর হওয়া দরকার।’

এদিকে দোকানিকে গুলির ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা দ্রুত এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের দাবি জানান।