অভিযোগপত্রে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ১০টি দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়।
অভিযোগ বলা হয়, ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে ডিগ্রিতে ভর্তি বার্তা ও ভর্তি ফরম বিক্রি বাবদ বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত টাকার চেয়ে অতিরিক্ত ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪০০ টাকা আদায় করে অধ্যক্ষ আবুল হোসেন তা আত্মসাৎ করেন। এছাড়া অনার্স শাখার আদায় করা টাকা ব্যক্তিগত হিসাবে জমা রাখেন তিনি।
এদিকে ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিবন্ধনের নামে ৭০ হাজার টাকা আদায় করে তাও আত্মসাৎ করেন এ অধ্যক্ষ।
অভিযোগে আরও রয়েছে, অধ্যক্ষ আবুল হোসেন কলেজের প্রশংসাপত্র ও নম্বরপত্র বিতরণের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০০ করে টাকা গ্রহণ করে কলেজ তহবিলে জমা দেননি। ২০১৫ সালে ডিগ্রির ছাত্রীদের উপবৃত্তির চেক দেওয়ার জন্য ১৪ হাজার টাকা ও উপবৃত্তির ফরম গ্রহণে ১৭ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করে তিনি আত্মসাৎ করেন।
চার সদস্যের একটি কমিটি ২০১৩ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০১৫ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত অধ্যক্ষের কর্মকাণ্ড নিরীক্ষণ করে বিভিন্ন খাতে টাকা আত্মসাৎ করাসহ নানা অনিয়ম চিহ্নিত করে। ওই আপত্তি ওঠার পর গত ২ সেপ্টেম্বর অধ্যক্ষ ‘যে অডিটে আপত্তি উঠেছে তাতে কিছু দফায় আংশিক ত্রুটি থাকতে পারে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ত্রুটি হবে না বলে আশা করছি’ মর্মে লিখিত প্রতিশ্রুতি দেন।
কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রমথ নাথ সরকার বলেন, অধ্যক্ষ কোনও সরকারি বিধি মানেন না। নিজে লাভবান হতে আর্থিকসহ বিভিন্ন অনিয়মে তিনি সরাসরি জড়িত রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ১০ অভিযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন: ঢাকা বিভাগে থাকার দাবিতে মাদারীপুরে আন্দোলন
কলেজের অধ্যক্ষ আবুল হোসেন বলেন, ব্যাংকের দুটি হিসাবই যৌথ নামে পরিচালিত হয়। সব টাকা পয়সার লেনদের ব্যাংকের মাধ্যমে করা হয়। এখানে আয়-ব্যয়ের হিসাবে স্বচ্ছতা রয়েছে। আমি দুর্নীতি, জালিয়াতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই।
তিনি আরও বলেন, কিছু শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতায় সমস্যা আছে। কলেজটি সরকারি হওয়ার আগেই তারা আমাকে দিয়ে তাদের মান উন্নয়ন করার জন্য অনুমতি চেয়েছিলেন। তাদের দাবি আমি নাকচ করে দেই। এ জন্য তারা প্রতিহিংসায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন।
/এআর/