ডাকাতের ভয়ে বাড়ি ছাড়ছেন শ্রীপুরের কর্ণপুরবাসী

শ্রীপুরে মোতালেব মাস্টারের পরিত্যাক্ত বাড়িগাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কর্ণপুরে ডাকাতের ভয়ে গ্রাম ছেড়েছেন বেশ কয়েকটি পরিবার। গত ১২ বছরে এসব ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতির ঘটনাগুলোতে কোনও মামলা হয়নি। এছাড়া গত এক বছরে এই গ্রামের জঙ্গল থেকে অজ্ঞাত চার নারীর অর্ধ গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ বছর নতুন করে যুক্ত হয়েছে হালের গরু চুরি। কোনও কৃষকের ঘরেই হালের গরু নেই।

সরেজমিন এলাকায় গিয়ে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে এসব জানা গেছে।

কর্ণপুর গ্রামের লোকমান হোসেন জানান, গত ১৩ মার্চ রাতে তার বাড়িতে ডাকাতি হয়। ডাকাতরা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে আসবাবপত্র তছনছ ও মূল্যবান মালামাল লুটে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে রাতেই আসবাবপত্র গুছিয়ে দিয়ে গেছে। তবে এ ব্যাপারে মামলা করার আশ্বাস দিয়ে শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। এ ঘটনার কয়েকদিন পর বাড়িতে একটি পাসপোর্ট পাওয়া যায়। পুলিশ পাসপোর্টের সূত্র ধরে একজনকে আটক করলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।

একই গ্রামের মোতালেব মাস্টার বলেন, ২০১২ সালের ১০ ডিসেম্বর তার বাড়িতে ডাকাতি হয়। এর আগে দু’বার হানা দেয়। তার ভাই শামসুল হক আকন্দের বাড়িতেও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতরা মূল্যবান মালামাল লুটে নিয়েছে। দুটি ঘটনায় কোনও মামলা নেয়নি পুলিশ। শুধুমাত্র সাধারণ ডায়েরি করতে হয়েছে। নিরাপত্তাহীনতায় বাড়ি ছেড়ে এখন স্থানীয় গোসিঙ্গা বাজারে সপরিবারে বসবাস করছি।

মোতালেব মাস্টারের ভাই শামসুল হক আকন্দের পরিত্যাক্ত বাড়ি২০০৬ সালের মে মাসে আসর আলী আকন্দ ও তমিজ উদ্দিন আকন্দের বাড়িতে হানা দেয় ডাকাতরা। এলাকাবাসীর বাধার মুখে ডাকাতেরা পালিয়ে যায়। পরে ২০০৭ সালের ২১ আগস্ট আবারও হামলা চালিয়ে ওই দু’বাড়ি থেকে মূল্যবান মালামাল লুটে নেয়।

তমিজ উদ্দিন আকন্দের ছেলে সুমন আকন্দ বলেন, ডাকাতি প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হয়েছি। পরিবারের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি। সবশেষে নিরাপত্তাহীনতায় সপরিবারে স্থানীয় গোসিঙ্গা বাজারে বসবাস করছি।

শ্রীপুরের মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ তোফাজ্জল হোসেন আকন্দ বলেন, ডাকাতির ভয়ে অনেকেই সপরিবারে গ্রাম ছেড়েছেন। এ গ্রামে প্রাকৃতিক বনভূমি বেশি। ডাকাতদের জন্য গ্রামের পরিবেশটিও অনেকটা অনুকূল। ফলে এ গ্রামে ডাকাতির ঘটনা বেশি ঘটে। এ জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

একই গ্রামের মমতাজ উদ্দিন বলেন, ২০১৫ সালে তার বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে। ডাকাতি প্রতিরোধে কোনও মামলা হয়নি।

একই এলাকার কৃষক হাসমত আলী বলেন, যাদের সক্ষমতা আছে তারা ডাকাতের ভয়ে অন্য কোনও এলাকায় বসবাস করতে পারেন। যাদের সক্ষমতা নেই তারা বারবার ডাকাতির শিকার হন। এখন খেয়ে পড়ে বাঁচার সুযোগও হারাতে হবে। গত তিন মাসে আমার ১২টি গরু চুরি হয়েছে। হাল চাষ করার মতো আর কোনও উপায় নেই।

গোসিঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল হোসেন জানান, গত সাত বছরে তার বাড়িতে দু’বার ডাকাতি হয়েছে। থানায় সাধারণ ডায়েরি করা ছাড়া ডাকাতি প্রতিরোধে অন্য কোনও অগ্রগতি হয়নি। গত দুই বছরে একই গ্রামের জঙ্গল থেকে অজ্ঞাত চার নারীর অর্ধ গলিত অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এদিকে, শ্রীপুর থানার সদ্য যোগদানকারী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল বলেন, কোথাও ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি। যদি কেউ এসব বিষয়ে অভিযোগ করে এবং এ রকম ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা চালু রয়েছে। প্রয়োজনে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার জন্য তাদের প্রয়োগ করা হবে।

আরও পড়ুন:
নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা নদীতে, ইলিশের হদিস নেই

/বিটি/