দুইদিন অবরুদ্ধ থাকার পর আশুলিয়ার নাইটিংগেল মেডিক্যাল কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন আজাদ সোমবার গভীর রাতে জানাল দিয়ে পালিয়েছেন। হাসপাতালের ভেতরে অতিরিক্ত পুলিশ থাকার পরও তৃতীয় তলার জানালা দিয়ে পালিয়ে যান প্রতিষ্ঠানে পরিচালক। এ ঘটনার সঙ্গে পুলিশের যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক শিক্ষার্থী।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ ও কলেজ কর্তৃপক্ষের অনিয়মের কারণে এ মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। একদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে কলেজটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে কলেজ কর্তৃপক্ষ পালিয়ে গেছে।
কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পালানোর কথা স্বীকার করলেও এ নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি আশুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিনুল কাদির।
একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, রবিবার বিকালের দিকে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম কলেজটি সাময়কি বন্ধ ঘোষণা করার পরপরই তারা প্রশাসনিক কর্মকর্তা নুরে ইমাম মেহেদির কাছে বিষয়টি জানতে চান। তিনি এই বিষয়ে কিছুই জানে না বলে হাসপাতাল থেকে পালাতে চাইলে শিক্ষার্থীরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন আজাদ ঘটনাস্থলে আসলে শিক্ষার্থীরা তাকেও অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে আশুলিয়া থানা পুলিশ ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মেডিক্যাল কলেজের পরিচালককে নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক করে শিক্ষার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত তাদের আন্দোলনের মুখে ব্যর্থ হয়ে ক্যাম্পাসের ভেতরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
মেডিক্যাল কলেজের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী নুসরাত ও রুবেল অভিযোগ করে বলেন, তাদের মেডিক্যাল কলেজে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। হাসপাতালে রোগীও ছিল না। শুধু পরীক্ষা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং বোর্ডকে দেখানোর জন্য এক মাসের চুক্তিতে শিক্ষক ভাড়া করে নিয়ে আসতো কলেজ কর্তৃপক্ষ। এমনকি সুস্থ লোকজনকে ভাড়া করে রোগী হিসেবে দেখানো হতো।এসব কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কলেজটি বন্ধ করে দিয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের অনিয়মের কারণে তাদের কেন ভুগতে হবে?
ক্ষুব্ধ কণ্ঠে তারা বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের কথা না ভেবেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমাদের মধ্যে অনেকেই নিম্নবিত্ত পরিবারের সদস্য। আবার কেউ কেউ জমি বিক্রি করে এই কলেজে ভর্তি হয়েছে। এখন আবার নতুন করে মাইগ্রেশন করলে একদিকে যেমন অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে। নতুন করে অন্য কলেজে মাইগ্রেশন করতে মানুসিকভাবে প্রস্তুতিসহ অতিরিক্ত টাকা যোগাড় করতে না পারলে তারা পিছিয়ে পড়তে পড়বে।
আরও পড়ুন:
ধর্ষণ থেকে ‘যৌন সংসর্গ’: তনু হত্যার তদন্ত কোন পথে
মা-মেয়েকে গণধর্ষণের ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতাকে বহিষ্কার
/জেবি/এসটি/