গুলশান হামলায় জড়িত সন্দেহে নরসিংদীতে আটক নারী রুমা আক্তারকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে দাবি করেছেন তার পরিবার। বুধবার রাতে (২০ জুলাই) ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট তাকে আটক করে।
এলাকাবাসী ও পরিবারের দাবি, স্বামী পরিত্যক্ত হওয়ার পর থেকে গত ৯ বছর ধরে তিনি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন।
রুমার পরিবার ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গুলশান হামলার পর সিসিটিভির ফুটেজ দেখে রুমাকে শনাক্ত করা হয়। এরপর বুধবার রাতে তাকে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার সাধার চর ইউনিয়নের চরখুপী গ্রামের বোনের বাড়ি থেকে আটক করা হয়। রুমার ১৪ বছর বয়সী একটি মেয়ে আছে। গুলশানের নতুন বাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে গৃহকর্মীর কাজ করতেন রুমা।
রুমার পরিবারের দাবি, বছরের বেশিরভাগ সময়ই তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন থাকেন। তার আত্মহত্যা করার প্রবণতাও আছে। ইচ্ছা হলে সে কাজ করে, ইচ্ছা না হলে করে না। ছয়মাস আগে গৃহকর্মীর ভিসায় বিদেশে গেলেও আড়াই মাস পার না হতেই রুমা দেশে ফিরে আসেন।
মানসিক ভারসাম্যহীন রুমা কোনও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারে- এটা তার পরিবার মানতে নারাজ। স্থানীয়রাও বলছেন একই কথা। রুমার আচার-আচরণে যে কেউ বুঝতে পারতেন যে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন। গুলশান হামলায় জড়িত থাকার বিষয়টি তারাও বিশ্বাস করতে পারছেন না।
রুমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুদ্দিন শেখ বলেন, ‘বেশিরভাগ সময়ই মেয়েটি মানসিকভাবে অসুস্থ থাকে। যা পুরো গ্রামবাসী জানে। রুমার কোনোভাবেই জঙ্গি সম্পৃক্ততায় থাকতে পারে না।’
বড় বোন সাবিনা আক্তার বলেন, ‘আমার বোন একাধিকবার হারপিক, কীটনাশক পান ও গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। এছাড়া নিজ মাথার চুল কেটে ফেলেছে কয়েকবার। স্বামী রেখে যাওয়ার পর থেকেই সে মানসিক ভারসাম্যহীন। গুলশান হামলার সময় টিভিতে খবর দেখে আমি রুমাকে ফোন দিয়েছিলাম। এ সময় সে কোথায় জানতে চাইলে বলে, ঘটনাস্থলের সামনে দাঁড়িয়ে সে দেখছে কি হচ্ছে। আমি বলেছিলাম, এখান থেকে চলে আয়। সে বলে আমি তো অনেকক্ষণ ধরে দেখছি।’
প্রতিবেশী লিপি আক্তার বলেন, ‘মানসিক রোগী ও অশিক্ষিত রুমার পক্ষে জঙ্গি তৎপররায় জড়িত থাকা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’
আরও পড়ুন: ‘সরকারি খুতবা’ প্রত্যাখ্যান, আন্দোলনের হুমকি হেফাজতের নারায়ণগঞ্জ শাখার
/এসটি/