শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার এক মাস

সেই দিনের কথা ভুলতে পারছে না এলাকাবাসী

জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হয়ে উঠলেও ভয়াবহ দিনটির কথা ভুলতে পারছেন না শোলাকিয়াবাসী। এক মাস আগের এ দিনটির কথা মনে হলে আজও  ভয়ে আঁতকে ওঠেন তারা। কিশোরগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা, ৭ জুলাইয়ের জঙ্গি হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হবে। কিন্তু ওই ঘটনায় আটক শফিউল ৪ আগস্ট র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যায়। কাজেই জঙ্গি হামলার সুষ্ঠু তদন্ত নিয়ে সংশয়ে স্থানীয়রা।শোলাকিয়া ১

তবে পুলিশ বলছে, এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। মামলার তদন্ত আপন গতিতেই চলছে। জঙ্গি হামলার ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলার আসামি স্থানীয় যুবক জাহিদ হক তানিমকে গ্রেফতার করলে তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কোনও তথ্য পায়নি পুলিশ। ১০ দিনের রিমান্ড শেষে বর্তমানে সে করাগারে রয়েছে।

পুলিশ দাবি করছে, বন্দুকযুদ্ধে নিহত শফিউলকে নিজেদের জিম্মায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে না পারলেও অন্যভাবে তার কাছ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে পুলিশ। যার ভিত্তিতে দেশজুড়ে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। তাকে না পেলেও তদন্তের কোনও সমস্যা হবে না।

সেই দিনের ঘটনাটি যারা দেখেছেন, একমাস পরও স্বাভাবিক হতে পারেননি। আশপাশের বাসাবাড়ি ও দেয়ালে জঙ্গি-পুলিশের গোলাগুলির চিহ্ন দেখে সেই ভয়াবহ দিনটির কথা বারবার মনে পড়ে তাদের।

শোলাকিয়ার বাসিন্দা মদন কুমার দাস বলেন,‘বাড়ি থেকে বের হলেই দেয়ালে গুলির চিহ্নগুলো এখনও চোখে পড়ে। তখনই সেই দিনের ভয়াবহতার কথা মনে পড়ে যায়।’শোলাকিয়া ২

শোলাকিয়ার স্থানীয় বাসিন্দা তৌহিদুল ইসলাম সৈকত বলেন, ‘বাসা থেকে বের হয়ে এলাকায় হাটাহাটি করলেই চোখে ভেসে ওঠে ঈদের দিনের সেই ভয়াল স্মৃতি।  ভুলতে পারি না সেই বিকট শব্দের বিস্ফোরণে আহতদের আর্তনাদ। যা কখনও ভাবিনি তাই ঘটেছিল সেদিন। আশা করি সরকার দ্রুত এর সমাধানে সঠিক পথ খুঁজে বের করবে।’

আরেক বাসিন্দা মো. শাহজাহান বলেন, ‘যেভাবে জঙ্গিবাদ নির্মূলে সরকার ও জনগণ একাত্বতা পোষণ করেছে, তাতে আশা করছি অচিরেই এ দেশ থেকে জঙ্গিদের আস্তানা ধ্বংস হবে। আমরা সাধারণ মানুষ কখনই এ দেশে জঙ্গিবাদের আবাসস্থল চাই না। সরকার নিরাপত্তা বাহিনীর মাধ্যমে যেভাবে সারাদেশে অভিযান অব্যাহত রেখেছে, তা যদি সবসময়ের জন্য বহাল থাকে তাহলে গুলশান বা শোলাকিয়ার মতো এমন ভয়াবহ ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর হবে না।’

কিশোরগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন খান জানান, এখনও পুরো জেলায় এলার্ট জারি রয়েছে এবং র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুই জঙ্গি নিহত হওয়ার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। 

শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার প্রধান দুই হোতা আবির রহমান ও শফিউল ইসলাম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে মারা যাওয়ায় মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মোর্শেদ জামান বলেন, মামলার তদন্ত স্বাভাবিক গতিতে চলবে। শোলাকিয়ার ঘটনায় আরও কারা জড়িত, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।শোলাকিয়া ৩

উল্লেখ্য, গত ৭ জুলাই ঈদুল ফিতরের দিন সকাল ৯টায় কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের আধা কিলোমিটারের মধ্যে বোমা হামলায় দুই পুলিশ সদস্যসহ চারজন নিহত এবং কমপক্ষে ১২ জন আহত হয়।

এদিকে প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন  রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জঙ্গিবাদবিরোধী কর্মসূচি দেওয়া হচ্ছে। সবার কণ্ঠে উচ্চারিত হচ্ছে জঙ্গিবাদবিরোধী শ্লোগান।

আরও পড়ুন: পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে ফেরি বন্ধ: আটকা হাজারো যান
/এআর/