শরীয়তপুরের কুণ্ডেরচরে ভাঙন অব্যাহত: নিখোঁজ ২ জনের সন্ধান মেলেনি এখনও


ভয়াবহ ভাঙনে পদ্মাগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার কুণ্ডেরচর ইউনিয়নের চোকদারকান্দি, কলমীরচর, খেঁজুরতলা, খালাসীকান্দি, পেদাকান্দিসহ অনেক গ্রাম


কয়েকদিন বিরতির পরে আবারও ভয়াবহ ভাঙনে পদ্মাগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার কুণ্ডেরচর ইউনিয়নের চোকদারকান্দি, কলমীরচর, খেঁজুরতলা, খালাসীকান্দি, পেদাকান্দিসহ অনেক গ্রাম।

এদিকে, গত বুধবারে নিখোঁজ কলমিরচর গ্রামের কৃষক আ. রশিদ শিকদার (৬৮) ও ইশ্বরকাঠি গ্রামের মোসলেম ফকিরের (৭০) সন্ধান শুক্রবারও পাওয়া যায়নি। পদ্মা নদীর প্রবল স্রোতে তারা তলিয়ে যান।

ভাঙনের কবল থেকে রেহাই পায়নি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ মসজিদও। এছাড়া নদী ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে কবরস্থান, ঘরবাড়ি। সে কারণে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে জীবন বাঁচাতে ব্যস্ত অনেকেই এখন এলাকা ছাড়ছেন। এদিকে, অনেকের ফসলি জমিও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

শুক্রবার শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মাহমুদুল হোসাইন খান নদী ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ সময় ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে নিরাপদে সরে যেতে মাইকিং করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

পরিদর্শনের সময় ডিসি মো. মাহমুদুল হোসাইন খান ভাঙনকবলিত এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বার, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, জন প্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্যদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন।

জরুরি সভায় কুণ্ডেরচর ইউপি চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন বেপারী, সাবেক চেয়ারম্যান মোতালেব মোল্যা, স্থানীয় মুরব্বী আনোয়ার হোসেন মাদবর, শহীদ হোসেন চোকদার, ব্যবসায়ী লিটন বেপারী, ও কুণ্ডেরচর ইউপি ৬নং ওয়ার্ড মেম্বার কামাল মাদবর উপস্থিত ছিলেন। এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমার দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় এমন নদীভাঙন আর দেখিনি। নদীভাঙন এলাকায় খুব দ্রুত মাইকিং করে ভাঙন কবলিত সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে তাদের পুনর্বাসন করা হবে।

আলাপকালে স্থানীয়রা জানান, অনেকদিন থেকেই কুণ্ডেরচরের কলমীরচর এলাকার খালাসী কান্দি, চোকদার কান্দি, পেদাকান্দিসহ কয়েকটি গ্রামে পদ্মার ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। জমির ফসল, গবাদিপশু, বসতবাড়ি নদীভাঙনে বিলীন হয়েছে।

ভয়াবহ ভাঙনে পদ্মাগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার কুণ্ডেরচর ইউনিয়নের চোকদারকান্দি, কলমীরচর, খেঁজুরতলা, খালাসীকান্দি, পেদাকান্দিসহ অনেক গ্রামনদীভাঙন এলাকা থেকে ঘর সরিয়ে নেওয়ার সময় মাসুদা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, আমার ছেলেরা দালান করেছে। কিন্তু তার কিছুই রক্ষা করতে পারলাম না। তিনি জানান, তার বড় ছেলে ইকবাল ১৮ বছর ধরে সৌদি প্রবাসী। ছোট ছেলে সিঙ্গাপুরে থাকে। আর অপর ছেলে ঢাকায় ব্যবসা করে।

মাসুদা বেগম, সব ছেলের রোজগারে বাড়ির দুটি দালান ঘর করা হয়েছে। তাও আজ নদীতে ভেঙে যেতে বসেছে।

গ্রামের বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন মাদবর (৬০) বলেন, আমার জীবনে ১৯ বার নদীভাঙন কবলিত হয়েছি। তবে ১৫ বছর ধরে নিরাপদে ছিলাম। এ বছর এক মাসে দুইবার নদীভাঙনে পড়েছি। আমার পাঁচ বিঘা জমিতে ফসল ছিল, তাও নদীভাঙন থেকে রেহাই পাচ্ছে না

ভয়াবহ ভাঙনে পদ্মাগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার কুণ্ডেরচর ইউনিয়নের চোকদারকান্দি, কলমীরচর, খেঁজুরতলা, খালাসীকান্দি, পেদাকান্দিসহ অনেক গ্রামকুণ্ডেরচর ইউপি ৬নং ওয়ার্ড মেম্বার কামাল মাদবর বলেন, আমার ওয়ার্ডেই ভাঙন বেশি। ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার এলাকা নদীভাঙন কবলিত। সে কারণে প্রায় ১৫ শতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কুণ্ডেরচর ইউপি চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন বেপারী বলেন, আমার এলাকায় নদীভাঙন নতুন কিছু না। তবে এবারের ভাঙন ব্যতিক্রম। বিগত দিনে এমন ভাঙন আর কেউ দেখেনি। ৫০ হাত লম্বা নারকেল গাছ নদীভাঙনে পড়ে মুহূর্তেই অদৃশ্য হয়ে যায়। কেউই বাড়িঘর সরিয়ে নিতে পারছেন না।
/এবি/