সরেজমিনে ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকেই কুন্ডেরচর ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী প্রায় দুই কিলোমিটার জায়গা জুড়ে ভাঙন শুরু হয়। তবে ভাঙনের তীব্রতা অনেক কম ছিল। কিন্তু গত দুই দিনে নদীর প্রচণ্ড স্রোতের কারণে ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। কলমিরচর বাজার পুরোটাই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এই বাজারে ২৩১টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ ভেঙে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হলেও ২০টি প্রতিষ্ঠান নদীতে তলিয়ে যায়। এছাড়া কলমিরচর জামে মসজিদসহ প্রায় অর্ধ শতাধিক পাকা বাড়ি ও দুই কিলোমিটার পাকা সড়ক নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সময় স্বল্পতায় বাড়ির মানুষ শুধুমাত্র ঘরের মালামাল নিয়ে নিরাপদ দূরত্বে সরে গেছেন। ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকায় আরও প্রায় শতাধিক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু অর্থ ও শ্রমিক সংকটের কারণে অনেককেই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সত্তর বছর বয়সী আলী আশ্রাফ মাদবর বলেন, জীবনে ৪/৫ বার ভাঙনের শিকার হয়েছি। কিন্তু ভাঙনের এমন ভয়াবহতা আগে দেখিনি। চোখের পলকে সব নদীতে চলে যাচ্ছে। অসহায় মানুষ নিজেদের মালামালও ঠিকমতো সরিয়ে নিতে পারছে না।
শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হোসাইন খান বলেন, আমি ভাঙন কবলিত এলাকায় গিয়েছিলাম। তাদেরকে দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে বলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এদের সাধ্যমতো সব ধরনের সহায়তা করা হবে।
আরও পড়ুন:
মীর কাসেমের ফাঁসির রায় বহাল
/বিটি/