এ ব্যাপারে গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাইনউদ্দীন গত ১৮ আগস্ট জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, ‘ম্যাক্স গ্রুপ বালু ফেলে রেললাইন নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। এ জন্য তারা কাশিয়ানী উপজেলার মধুমতি নদীর চারটি বালু-মহাল ইজারা নিয়েছে। ইজারাকৃত বালু মহালের বাইরে গিয়ে ড্রেজার দিয়ে তারা বালু উত্তোলন করছে। ওই এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কোটি-কোটি টাকা ব্যয়ে নদীর তীর সংরক্ষণের কাজ বাস্তবায়ন করছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারের নদীর তীর সংরক্ষণের প্রকল্প হুমকিতে পড়বে। ম্যাক্স গ্রুপের দায়িত্বপ্রাপ্ত সার্ভেয়ার মনোয়ার হোসেনকে মোবাইল ফোনে সঠিক স্থান থেকে বালু উত্তোলনের জন্য বলা হয়। কিন্তু ড্রেজার মালিকরা তা মানছে না।’
অন্যদিকে স্থানীয়রাও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। চরকালনা গ্রামের দবির উদ্দিন জানান, ম্যাক্স গ্রুপ নির্ধারিত স্থানের বাইরে গিয়েও বালু উত্তোলন করছে। চর ফুকরা গ্রামের ওসমান আলী বলেন, ‘অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে কোটি-কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শংকরপাশা, ফুকরা এলাকার তীর-রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়া অসংখ্য ঘরবাড়ি, গাছপালা, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, রাস্তাঘাট, দোকানপাট ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ভাঙনের মুখে পড়তে পারে। বালু উত্তোলন নিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে ড্রেজার মালিকদের কয়েক দফা মারামারিও হয়েছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ, ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীর পরিচয়ে এবং স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ম্যাক্স কোম্পানির বালু উত্তোলনের কাজ পেয়েছেন। ফলে নিয়মনীতি ছাড়াই তারা তাদের ইচ্ছামতো বালু উত্তোলন করছেন। বাঁধা দিলে ড্রেজার মালিকরা নিজস্ব বাহিনী দিয়ে প্রতিবাদকারীদের ওপর হামলা চালায় এবং পুলিশ দিয়ে নানাভাবে হয়রানি করে।
ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিক ফুকরা গ্রামের সেলিম খান বলেন, ‘ম্যাক্স কোম্পানির লোকেরা আমাদের জমি ঘেঁষে বালু উত্তোলন করতে যায়। এলাকাবাসী বাঁধা দিতে গেলে কাশিয়ানী থানা পুলিশ আমাকে ধরে নিয়ে যায়। পরে টাকা দিয়ে ছাড়া পাই।’
চর কালনা গ্রামের ফিরোজ খান (পিন্টু) বলেন, ‘নদীর তীর ঘেঁষে আমার প্রায় ৬ একর জমি রয়েছে। কিন্তু এভাবে বালু উত্তোলন করলে আমি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হব। আমার জমি নদীতে বিলীন হবে।’
ম্যাক্স কোম্পানির প্রজেক্ট ম্যানেজার (পিএম) আব্দুল ওহাব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘বিষয়টি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি।’
কাশিয়ানী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. কামরুল হাসান বলেন, ‘আমরা ম্যাক্স কোম্পানির প্রজেক্ট ম্যানেজার (পিএম) আব্দুল ওহাব সাহেবকে একাধিকবার সর্তক করেছি।’
গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ মোকলেছুর রহমান সরকার বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই।’
/এআরএল/