গোপালগঞ্জে হতদরিদ্রের বরাদ্দ চাল কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ

 

গোপালগঞ্জগোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্রের ১০ টাকা কেজি মূল্যের চাল ডিলার কালোবাজারে বিক্রি করেছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। মঙ্গলবার ( ৪ অক্টোবর) কোটালীপাড়া উপজেলার কুশলা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের হতদরিদ্র কার্ডধারী বসুদেব মধু কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, কুশলা ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের ১০ টাকা মূল্যের চাল বিক্রির নিযুক্ত ডিলার আল মামুন হোসেন (নিক্সন) ওই ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের কার্ডধারী অর্ধশতাধিক হতদরিদ্রকে চাল না দিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন।
অভিযোগকারী বসুদেব মধু বলেন, হতদরিদ্রদের মধ্যে চাল বিক্রির ডিলার আল মামুন হোসেন (নিক্সন) আমাদের ওয়ার্ডের প্রায় অর্ধশত ব্যক্তিকে চাল না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। আমরা চাই, ডিলার প্রতি মাসে ১০ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি করে চাল আমাদের মাঝে বিতরণ করুক।
ওই ওয়ার্ডের জাঠিয়া গ্রামের বিধবা সুন্দরী বালা বলেন, কুশলা ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজি দরে চাল দেওয়ার জন্য সরকার আমাকে একটি কার্ড দিয়েছে। ওই কার্ডের নামের তালিকায় আমার সিরিয়াল নম্বর ৩৩৯ । আমার কাছে এখন পর্যন্ত কার্ড হস্তান্তর করা হয়নি। ডিলার গত সেপ্টেম্বর মাসে আমাকে চাল দেয়নি।

একই গ্রামের কালিপদ বাড়ৈ বলেন, ডিলার নিক্সন স্বাক্ষর করে আমাকে একটি কার্ড দিয়েছে। সে কার্ডে আমি ৩০ কেজি চাল উত্তোলন করেছি বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু ওই কার্ড দিয়ে আমি কোনও চাল উত্তোলন করিনি। আমি ডিলারের কাছে চাল চাইতে গেলে সে আমাকে বিভিন্ন প্রকার হুমকি দিচ্ছে।
এ ব্যাপারে ডিলার নিক্সনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমি চাল আত্মসাৎ করিনি। এ ব্যাপারে কাউকে হুমকিও দেইনি। তবে গত মাসে আমি ১০/১৫টি কার্ডের চাল বিতরণ করতে পারিনি। দু-এক দিনের মধ্যে কার্ডধারীদের চাল বিতরণ করবো।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিলাল হোসেন বলেন, ডিলার নিক্সনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে ওই ডিলার দোষী হলে তার বিরুদ্ধে আইনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/এআর/