পুলিশকে মারধর করা সেই ছাত্রলীগ নেতা বহিষ্কার, ২ মামলা

শরীয়তপুরশরীয়তপুরে থাপ্পড় মেরে পুলিশের কানের পর্দা ফাটানোর ঘটনায় শরীয়তপুর সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আক্তার হোসেন ঢালীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মহসীন মাদবর, যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন টিপু ও রাশেদউজ্জামান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। এদিকে, এ ঘটনায় চিকিৎসক ও পুলিশ বাদী হয়ে পালং মডেল থানায় পৃথক দুইটি মামলা করেছে।

পালং মডেল থানা সূত্রে জানা যায়, অনৈতিকভাবে চিকিৎসা সনদ নেওয়ার জন্য চিকিৎসকের ওপর চাপ প্রয়োগ ও লাঞ্ছিত করায় শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. সুমন কুমার পোদ্দার বাদী হয়ে শরীয়তপুর সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আলমগীর হোসেন হাওলাদার, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও ভাইস চেয়ারম্যানের ভাগিনা আক্তার হোসেন ঢালী এবং আওয়ামী সমর্থক খলিলুর রহমান জাগরণ শেখকে আসামি করে মামলা করেন। অপরদিকে, পুলিশকে মারধরের ঘটনায় পালং থানার উপ পরিদর্শক নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে উপরোক্ত তিনজনকে আসামি করে পৃথক আরও একটি মামলা করেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক  করতে পারেনি পুলিশ।

জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মহসীন মাদবর বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করায় আক্তার হোসেন ঢালীকে ছাত্রলীগের সব ধরণের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খলিলুর রহমান বলেন, চিকিৎসককে অপদস্থ ও পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনায় তিনজনকে আসামি করে পৃথক দুইটি মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলমগীর হাওলাদার, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আক্তার হোসেন ঢালী ও আওয়ামী লীগ কর্মী খলিলুর রহমান জাগরণ সদর হাসপাতালের ডা. দেবাশীষ সাহার কক্ষে যান। এ সময় তাদের কথামতো অনৈতিকভাবে চিকিৎসা সনদ দিতে রাজি না হওয়ায় তারা চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করেন। সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্য সেলিম মাতুব্বর এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে আক্তার ঢালী তার কানে থাপ্পড় দেন। এতে সেলিমের কানের পর্দা ফেটে যায়। তাকে সঙ্গে সঙ্গে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পরপরই অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

আরও পড়ুন:

নাসিরনগরের ওসি প্রত্যাহার

/বিটি/