আমিনবাজারে সংঘর্ষের ঘটনায় নিখোঁজের দুই দিন পর লাশ উদ্ধার

সাভারসাভারের আমিনবাজার এলাকায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে যুবলীগ-ছাত্রলীগ ও রিয়েল এস্টেট কোম্পানির লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় নিখোঁজ হন জুয়েল আহম্মেদ নামের এক কর্মী। ঘটনার দুই দিন পর মঙ্গলবার সকালে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তুরাগ নদীতে তল্লাশি চালিয়ে সিলিকন রিয়েল এস্টেটের কর্মী জুয়েলের লাশ উদ্ধার করেছে।

এর আগে গত রবিবার (২৭ নভেম্বর) জমি দখলকে কেন্দ্র করে যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ৬ জনকে গুলি করে আহত করে। তাদের মধ্যে একজন নিখোঁজ ছিলেন।

স্থানীয়রা ও পুলিশ জানায়, রবিবার দুপুরে সাভারের আমিনবাজার এলাকার তুরাগ নদীর পাশে সিলিকন রিয়েল এস্টেটের জমি দখলকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার যুবলীগ নেতা তুহিন খান, ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিজান, আদাবর এলাকার ছাত্রলীগ নেতা রিয়াজ, আমিনবাজার ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ও সাইফুল তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে হামলা চালায়। এসম সন্ত্রাসীরা সিলিকন রিয়েল এস্টেটের ৬ কর্মীকে গুলি ও আরও ১৪ জনকে কুপিয়ে জখম করে। এসময় সন্ত্রাসীরা জুয়েল নামের এক কর্মীকে গুলি করে আহত করার পর ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে তার লাশ তুরাগ নদিতে ফেলে দেয়। এ ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও জুয়েলে লাশ খুঁজে পাননি স্থানীয়রা।

পরে ফায়ার সার্ভিসের সদর দফতর থেকে আসা একটি ডুবুরি দল তুরাগ নদীতে তল্লাশি শুরু করে। দুই দিন তল্লাশি চালানোর পর মঙ্গলবার সকালে তুরাগ নদী থেকে লাশটি উদ্ধার করেন তারা।

এ ব্যাপারে সিলিকন রিয়েল এস্টেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সারোয়ার হোসেন বলেন, সন্ত্রাসীরা তার রিয়েল এস্টেটের জমি অন্যায়ভাবে দখল করতে আসে। এসময় বাধা দিলে তার ৬ কর্মীকে গুলি ও আরও ১৪জনকে কুপিয়ে জখম করে। জুয়েল নামের তার এক কর্মীকে গুলি করে আহত করার পর ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে হত্যা করে। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে অভিযোগ করে বলেন, ‘এ ঘটনার পর আমরা থানায় মামলা দায়ের করি। তবে মামলায় পুলিশকে একাধিকবার নিখোঁজের বিষয়টি উল্লেখ করলেও পুলিশ তা নথিভুক্ত করেনি। এছাড়া ঘটনার দুদিন পার হয়ে গেলেও এ ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করেনি।’

এব্যাপারে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম কামরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘নিখোঁজের দুই দিন পর নিহত সিলিকন কর্মীর লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হবে।’

আরও পড়ুন- 


সাংবাদিক মানিক সাহা হত্যা মামলার রায় আগামীকাল

/এফএস/