মানিকগঞ্জে মাদক বেচাকেনায় জড়িয়ে পড়ছে নারীরাও: পুলিশ সুপার

Madok--Nari-01মানিকগঞ্জে অনেক নারীরাও মাদক বেচাকেনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মো, মাহফুজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘মানিকগঞ্জের মাদক ব্যবসা এখন পাঁচজন গড ফাদারের নিয়ন্ত্রণে। তারা নারীদের ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে মাদক পৌঁছে দেওয়ার জন্য। পরে বিকাশের মাধ্যমে মাদকের মূল্য পরিশোধ করা হয়।’



মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
সম্প্রতি মানিকগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযানে নেমেছে জেলা পুলিশ। প্রতিদিনই পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ীসহ মাদক উদ্ধার করছে। পুলিশের অভিযানে ধরা পরছে মাদক ব্যবসায়ী একাধিক দম্পতি। তারা স্বামী-স্ত্রী মিলে মাদক বেচাকেনা ও সেবনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ পায় পুলিশ। পরে গত এক সপ্তাহে মাদকসহ ২৫ জনের মতো আটক করা হয়।
মানিকগঞ্জ পৌর সভাকে মাদক মুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান। তার নেতৃত্বে সোমবারও (১৩ ফেব্রুয়ারি) মাদক বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে গত কয়েক দিনে ইয়াবা,হেরোইন,গাজাসহ মাদকের চালান এবং ২৩ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খরা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এদের মধ্যে কয়েকজন নারী সদস্যও রয়েছে।
পুলিশ সুপার জানান, মানিকগঞ্জে মাদক বেচাকেনার মূল হোতা হচ্ছে পৌর এলাকার পলাশ। তার সঙ্গে দুই জেলার বড় বড় দুই গডফাদার রয়েছে। তাদের মাধ্যমেই মানিকগঞ্জে মাদকের চালান আসছে। পাঁচজন গডফাদার নিয়ন্ত্রণ করছে মানিকগঞ্জের মাদক ব্যবসা।
এদিকে সম্প্রতি মাদক বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছে একাধিক দম্পত্তিকে। এরমধ্যে পৌর এলাকার মাদক সম্রাট সাব্বির রহমান ওরফে ব্লাক রাজু ও তার স্ত্রী রুমি আক্তার ইয়াবাসহ মাদক বেচাকেনা ও সেবনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত। ব্লাক রাজু মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে জেলা শহরে প্রতিষ্ঠিত এবং কয়েকটি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার স্ত্রী রুমি আক্তার একাধিক বিয়েসহ মাদকের নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িতে বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এই দম্পতি ছাড়াও মাদক বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছে পৌর এলাকার আরেক দম্পত্তি লিটন দাস ও তার স্ত্রী বিথী দাসকে।
এলাকার বাসীর চোখ ফাঁকি দিয়ে এই দম্পতি মাদক বেচাকেনা চালিয়ে যাচ্ছিল অনেক দিন ধরেই। নারী মাদক ব্যবসায় হিসেবে এরই মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে হরিরামপুর উপজেলার দিয়াপাড়া এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী রীনা আক্তারকে।
মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘মানিকগঞ্জে মাদকের ভয়াবহতা বেড়ে গেলেও মাদক নির্মুলের জন্য আমরা প্রতিদিনই অভিযান চালাচ্ছি। মাদকের গ্যাং লিডার পলাশকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে জামিনে ছাড়া পেয়েছে। তার বিরুদ্ধে ৮ থেকে ১০টি মামলা রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পলাশের সঙ্গে দুটি জেলার মাদকের বড় বড় দুই গডফাদার আছে। তাদের মাধ্যমেই মানিকগঞ্জে মাদক আসছে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মানিকগঞ্জ পৌর সভাকে মাদক মুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।’
/এআর/