নরসিংদী সদর উপজেলার পাঁচদোনায় ভাই গিরিশ চন্দ্র সেনের বাড়ি। সংস্কারের অভাবে আর দখলদারিত্বের চাপে শতবর্ষী বাড়িটি তার পুরনো ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলেছিল। ২০০৮ সালে বাড়িটির মূল কাঠামো অক্ষুণ্ন রেখে সংস্কারে অনুদান দিতে আগ্রহ প্রকাশ করে ভারতীয় হাইকমিশন। পরে ২০১৫ সালে নরসিংদী জেলা প্রশাসন ও প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা কেন্দ্র ঐতিহ্য অন্বেষণের মধ্যে বাড়িটি সংরক্ষণ ও একটি প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর নির্মাণের চুক্তি হয়। এরপর সরকারের নিয়ন্ত্রণে ও দিক নির্দেশনায় সংরক্ষণের কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। চুক্তি অনুযায়ী, ভারতীয় হাইকমিশন থেকে ১ কোটি ২০ লাখ অনুদানও পায় ঐতিহ্য অন্বেষণ। এ বছরের এপ্রিলে এসে শেষ হয়েছে সংস্কার ও জাদুঘর নির্মাণের কাজ।
ঐতিহ্য অন্বেষণের নির্বাহী পরিচালক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গিরিশচন্দ্রের বাড়িটির মূল অবকাঠামো অক্ষুণ্ন রাখতে প্রথমে ডকুমেন্টেশন করা হয়। পরে সে নকশা অনুযায়ী নওগাঁ ও কুড়িগ্রামের পুরাকীর্তির কাজে অভিজ্ঞ ২০/২৫ জন শ্রমিককে কাজে লাগানো হয়। তারা পরম মমতায় শৈল্পিকভাবে ফুটিয়ে তুলছেন হারিয়ে যেতে বসা গিরিশ সেনের বাড়ির ঐতিহ্য।’ সুফি মোস্তাফিজুর জানান, কোনও রড-সিমেন্ট ব্যবহার না করে শুধু ইট, চুন, সুরকি ও বালি ব্যবহার করা হয়েছে এই বাড়ির সংস্কারে। বাড়িটিতে আগে যা ছিল, এখনও ঠিক তাই থাকছে।
ঐতিহ্য অন্বেষণ সূত্রে জানা গেছে, মূল অবকাঠামো অক্ষুণ্ন রেখে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মেরামত ও সংরক্ষণের এই কাজে ব্যবহার করা হয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা ব্রিটিশ আমলের মূল্যবান কাঠ, আসবাবপত্র ও যশোরের টালি। এ ছাড়া, ঐতিহ্য অন্বেষণের নিজ উদ্যোগে উয়ারী-বটেশ্বর এলাকায় তৈরি করা একটি বিশেষ আয়তনের ইটও ব্যবহার করা হয়েছে।
পুরনো চেহারায় ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি গিরিশ চন্দ্রের বাড়িতে তৈরি করা হয়েছে একটি জাদুঘর। এখানে তুলে ধরা হয়েছে গিরিশ চন্দ্রের ব্যবহৃত জিনিসপত্র ও তার লেখা বই। বাড়ির সামনে বসানো হয়েছে গিরিশচন্দ্রের সংক্ষিপ্ত জীবনীসহ আবক্ষ মূর্তি।
সুফি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এরই মধ্যে নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ হয়ে গেছে। এ (এপ্রিল) মাসের মধ্যেই বাড়ি ও জাদুঘরটি উদ্বোধন ও দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করার চেষ্টা চলছে।’ মূল অবকাঠামো ঠিক রেখে সংরক্ষণের কাজ করায় সময় একটু বেশি লেগেছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ভাই গিরিশ চন্দ্র সেনের জন্ম ১৮৩৪ সালে নরসিংদী সদর উপজেলার পাঁচদোনা গ্রামে। ১৯১০ সালের ১৫ আগস্ট ঢাকায় মারা যান তিনি। ব্যক্তিজীবনে গিরিশ চন্দ্র সেন একাধারে সাহিত্যিক, গবেষক ও ভাষাবিদ ছিলেন। এ ছাড়া ব্রাহ্মধর্ম প্রচারক হিসেবে তিনি ‘ভাই’ খেতাবে ভূষিত হন। আরবি, ফার্সি ভাষায় ব্যুৎপত্তি অর্জন এবং কোরআন হাদিসের প্রথম অনুবাদক হিসেবে লাভ করেন ‘মৌলভী’ খেতাব।
/টিআর/এফএস/
আরও পড়ুন-
প্রশ্নফাঁসের সিন্ডিকেটে ১২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ২৪ কোচিং সেন্টার