গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের রিপোর্ট ল্যাবএইডের প্যাডে

 

গোপালগঞ্জ

চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রাম করে ল্যাবএইডের প্যাডে রিপোর্ট দিয়ে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন এক রোগী।  অভিযুক্ত চিকিৎসক নিকসার আকতার গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগের চিকিৎসক ও সরকারি শেখ সায়েরা খাতুন মেডিক্যাল কলেজের রেডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। এ ব্যাপারে শনিবার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এব্যাপারে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ফরিদুল ইসলাম চৌধুরীর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ডালনিয়া গ্রামের আব্দুল হক সরদারের স্ত্রী সাহেরা বেগম (৫০)।

সাহেরা বেগম জানান,‍ তিনি গাইনি সমস্যার জন্য বুধবার হাসপাতালের টিকিট কেটে নিকসার আকতারকে দেখান। তখন তিনি সাহেরা বেগমকে আল্ট্রাসনোগ্রামের পরমর্শ দেন। এসময় তার সহকারী রোকেয়া আল্ট্রাসনোগ্রামের জন্য তার কাছে ৬০০ টাকা চান। টাকা না থাকায় তিনি বাড়ি ফিরে যান। বৃহস্পতিবার হাসপাতালে গেলে রোকেয়া তাকে ল্যাবএইড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানে তার কাছ থেকে ৫০০ টাকা নিয়ে কয়েক ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাকে আবার জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নিকসার আকতার তার আল্ট্রাসনোগ্রাম করেন, কিন্তু প্রতিবেদন দেন ল্যাবএইড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্যাডে। পরে সায়েরা বেগম হাসপাতালের সহকারী পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানান গেছে, আল্ট্রাসনোগ্রামের সরকারি রেট ২২০ টাকা হলেও তার কাছ থেকে ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। নিকসন আকতার হাসপাতালের কোষাগারে কোনও টাকা জমা না দিয়ে তা আত্মসাৎ করেছেন।

অভিযুক্ত গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের রেডিওলজি  বিভাগের চিকিৎসক নিকসার আকতার বলেন, ওই রোগী আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে জেনারেল হাসপাতালে আসেন। ভালো পরীক্ষার জন্য তাকে ল্যাবএইডের পাঠানো হয়। কিন্তু পরীক্ষা ভালও না হওয়ায় তাকে হাসপাতাল থেকে আবারও পরীক্ষা করানো হয়। বিষয়টি অন্যভাবে নেওয়া হচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযাগ সত্য নয়।

সহকারী পরিচালক ফরিদুল জানান, গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনের জব্দ করা কাগজপত্র প্রাথমিকভাবে পর্যালোচনা করেছে। মনে হচ্ছে সাহেরা বেগমের আল্ট্রাসনোগ্রামটি জেনারেল হাসপাতাল থেকেই করা হয়েছে। নিকসার হাসপাতালের সরকারি প্রতিবেদন দিতে পারতেন। তা না দিয়ে তিনি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিবেদন দিয়েছেন।

 তিনি আরও বলেন, এ ব্যাপারে শনিবার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/জেবি/



আরও পড়তে পারেন: রবিবার তিন পার্বত্য জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল