মালয়েশিয়া থেকে এক প্রবাসীকে অপহরণ করে তার পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ে সহযোগীতাকারী তিন জনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) সন্ধ্যায় নরসিংসী থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে কর্মস্থল থেকে দানিসুর রহমান ছোটন (২৫) এক প্রবাসীকে অপহরণ করে তার পরিবারের কাছ থেকে ৪ লাখ ৪৬ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়। মুক্তিপণ আদায়ের পর গুরুতর আহতাবস্থায় ছোটনকে মালয়েশিয়ায় হাইওয়ের পাশে ফেলে রেখে যায় অপহরণকারীরা। অপহৃত দানিসুর রহমান ছোটন রায়পুরা উপজেলার রাজপ্রসাদ গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে।
নরসিংদী থেকে গ্রেফতারকৃত অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা হলেন- নরসিংদী সদর উপজেলার বুদিয়ামারা এলাকার শরীফ মিয়া, জয়নাল আবেদীন ও তাছলিমা বেগম।
গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, মালয়েশিয়া প্রবাসী নরসিংদীর রায়পুরার রাজপ্রসাদ গ্রামের দানিসুর রহমান ছোটন তার কুয়ালালামপুরের কর্মস্থল থেকে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের ৫/৬ দিন পর অপহরণকারী চক্র বাংলাদেশে তার পরিবারের কাছে ফোন করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এসময় পরিবারের লোকজন জানতে পারেন ছোটনকে প্রবাসী ১০/১২ জন বাংলাদেশি ও নেপালী সঙ্গে একটি গুহায় হাত-পা বেঁধে বন্দি করে রাখা হয়েছে।এক পর্যায়ে অপহরণকারীরা ছোটনকে নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিও কলের মাধ্যমে তার পরিবারকে দেখায়। পরে তাদের কথামতো মুক্তিপণ না দিলে ছোটনকে জবাই করে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়। ওই অপহরণকারী চক্র বাংলাদেশে তাদের সহযোগীদের মাধ্যমে ছোটনের পরিবারের কাছ থেকে ৪ লাখ ৪৬ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করে। এ ঘটনায় ছোটনের পরিবার বাদী হয়ে নরসিংদী সদর থানায় একটি মামলা করে। ওই মামলার সূত্র ধরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ১৫ জুন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নরসিংদীর বুদিয়ামারা এলাকার শরীফ মিয়া, জয়নাল আবেদীন ও তাছলিমা বেগম নামে অভিযুক্ত ৩ জনকে গ্রেফতার করে। পরে গ্রেফতারকৃতদের চাপ দেওয়া হলে অপহরণকারী চক্র গুরুতর আহতাবস্থায় দানিসুর রহমান ছোটনকে মালয়েশিয়ায় হাইওয়ের পাশে ফেলে যায়।
নরসিংদীর বুদিয়ামারা এলাকার শামীম, সুমন, বাচ্চু, হুমায়ূন ও শহরের দত্তপাড়া এলাকার সুমন বিভিন্ন সময় মালয়েশিয়ায় অপহরণ হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণের টাকা নেয় বলে জানতে পারে গোয়েন্দা পুলিশ। ছোটনের পরিবার থেকে নেওয়া ৪ লাখ ৪৬ হাজার টাকা গ্রহণকারী একই চক্র।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক আব্দুল গাফফার বলেন, মালয়েশিয়ার অপহরণকারী চক্রটির মধ্যে ৫ জন বাংলাদেশি, বাকীরা পাকিস্তান ও মালয়েশিয়ার লোক বলে জানতে পেরেছি। অপহরণকারী চক্রের বাংলাদেশের এজেন্টরা মূলত তাদের হয়ে অপহৃত বাংলাদেশিদের পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায় করে থাকে। এই চক্রটি শিগগিরই ধরা পড়বে বলে আশা করছি।
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন: আবারও বৃষ্টি: বান্দরবানের পাহাড় থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে