সোমবার দুর্ঘটনার পর সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যে চারজনের লাশ আনা হয় তাদের মধ্যে দুজনের পরিচয় মিলেছে। তাদের একজন হলের কাতার প্রবাসী ইলিয়াছ হোসেনের ছেলে ইনান (৮)। আরেকজনের নাম জিয়াছমিন। বাকি দুজন পুরুষ, তাদের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি। ওই দুজনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক (টিএস) ডা. তানভীর আহমেদ।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) বাচ্চু মিয়া জানান, সোনারগাঁয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক সোমবার ছয়জনকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই ছয়জনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ওই ছয়জন হলেন কাতার প্রবাসী ইলিয়াছ হোসেন (২৮), তার ভাই মফিজ ( ৪৭) ও বোন মিনুয়ারা (৩৫)। তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার চান্দিনায়। ইলিয়াছ হোসেনের সন্তানের লাশ রয়েছে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। অন্য দুজন হলেন শুভ সাহা (১৮), তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের হাজিগঞ্জে। হেনা আক্তার (১৮), তার বাড়িও চাঁদপুরে।
কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের (ওসি) আব্দুল কাইয়ুম সরদার জানান, ‘দুর্ঘটনাকবলিত বাসের কয়েকজন আহত যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে যাত্রা শুরু করা বাসটি ছিল যাত্রীতে ঠাসা। এর মধ্যে পথে পথে আরও যাত্রী তোলা হয় বাসটিতে। সিট না পেয়ে অনেক যাত্রী দাঁড়িয়ে ছিলেন। মধ্যবয়স্ক বাসচালক কিছুক্ষণ পর পর গাড়ি চালানো অবস্থায় মোবাইল ফোনে কথা বলছিল। বাসটি মদনপুর বাসস্ট্যান্ডের কিছু দূরে একটি ব্যাটারিচালিত রিকশাকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে রিকশাযাত্রী ছিটকে রাস্তার ওপর পড়ে যায়। রিকশাকে চাপা দেওয়ার পর থেকে পালানোর জন্য গাড়িচালক আরও বেপরোয়া গতিতে বাসটি চালাতে শুরু করে। এ সময় বাসের কয়েকজন যাত্রী বেপরোয়া গতিতে বাস না চালাতে তাকে অনুরোধ করেন। কিন্তু চালক কোনও কথা না শুনে নিজের ইচ্ছেমতো গাড়ি চালাচ্ছিল। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ত্রিবর্দী মুধমতি সিএনজি স্টেশেনের রাস্তার বিশলা বাঁক থেকে একটু সামনে গিয়ে বাসটি একটি লরিকে পেছন থেকে জোরে ধাক্কা দেয়। এতে গাড়িটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে প্রায় ৬ থেকে ৭ ফুট ভেতরে ঢুকে যায়। গাড়ি ছাদ খুলে যায়। বাসের প্রায় সব যাত্রীই কমবেশি আহত হয়েছে। বিশেষ করে সামনের যে অংশটি দুমড়ে-মুচড়ে গিয়েছে সে অংশে যারা ছিলেন তাদের বেশি আহত হয়েছেন।’