শোলাকিয়া হামলা: ৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট, ১৯ জনকে অব্যাহতি

 

শোলাকিয়া হামলাকিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলা মামলার আসামিদের পাঁচ জনের বিরুদ্ধে আদালাতে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকালে জেলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাবিবুল্লার আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কিশোরগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আরিফুর রহমান। মামলার নিহত ১৯ আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিকালে জেলা পুলিশ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ। এসময় অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন, কিশোরগঞ্জ শহরের তারাপাশা এলাকার জাহিদুল হক তানিম, গাইবান্ধার রাঘবপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, চাপাইনবাবগঞ্জের হাজারদিঘা গ্রামের মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, গাইবান্ধার পান্থাপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন ও কুষ্টিয়ার সাদিপুর কাবলিপাড়া গ্রামের আব্দুস সবুর খান হাসান ওরফে সোহেল মাহফুজ।

পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান বলেন, ‘চার্জশিটে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা কোথায় হয়েছিল, এ হামলায় কারা কারা টাকা-পয়সার জোগান দিয়েছিল, কোথা থেকে অস্ত্র এসেছে, কারা সহযোগিতা করেছিল, সবই উঠে এসেছে। চাঞ্চল্যকর মামলা হওয়ায় চার্জশিট দিতে দেরি হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, এ মামলার মোট ২৪ জন আসামি ছিল। এর মধ্যে ১৯ জন্য জঙ্গি হামলা চালাতে গিয়ে পুলিশের অভিযানে অথবা পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বিভিন্ন সময় মারা যায়। তাই অন্যদের অব্যাহতি দিয়ে জীবিত পাঁচ জনকে মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি করা হয়। বর্তমানে তারা কারাগারে আটক রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৭ জুলাই ঈদের দিন সকাল পৌনে ৯টার দিকে শোলাকিয়া ঈদগাহের কাছে আজিমউদ্দিন হাইস্কুল সংলগ্ন রাস্তায় মুফতি মুহাম্মদ আলী মসজিদের কাছে পুলিশের একটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলা চালায় অস্ত্রধারী জঙ্গিরা। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে জঙ্গিদের সঙ্গে পুলিশের বন্দুকযুদ্ধ হয়। এসময় পুলিশের দুই কনস্টেবল জহিরুল ইসলাম ও আনসারুল হককে হত্যা করে জঙ্গিরা। আহত হয় পুলিশের অন্তত ৮ সদস্য। পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ঘটনাস্থলে নিহত হয় আবির রহমান নামে এক জঙ্গি। আহত অবস্থায় আটক করা হয় শফিউল ইসলাম ডন নামে এক জঙ্গিকে। পরে সেও মারা যায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে। ঘটনার সময় নিজের ঘরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন গৃহবধূ ঝর্ণা ভৌমিক। ২০১৬ সালের ১০ জুলাই নিরাপত্তা চৌকিতে দায়িত্ব পালনকারী পাকুন্দিয়া থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সামসুদ্দীন বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। আটক জাহিদুল হক তানিম ও শীর্ষ জঙ্গি শফিউল ইসলাম ডনসহ অজ্ঞাতনামা জঙ্গিদের এ মামলার আসামি করা হয়। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য রয়েছে।