গাজীপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ১৮

গাজীপুরগাজীপুর সিটির লক্ষ্মীপুরা এলাকায় বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধের দাবিতে ইন্ট্রামেক্স নামের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন ও বিক্ষোভ করেছেন। এসময় বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা কারখানাটিতে ভাঙচুর চালান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ আসলে তাদের সঙ্গে কয়েক দফা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয় শ্রমিকদের। পুলিশ অন্তত ৩১ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ও ২২ রাউন্ড টিয়ার সেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে পুলিশের সহাকরী উপ-পরিদর্শকসহ (এসআই) অন্তত ১৮ জন আহত হন। সোমবার (১৫ অক্টোবর) এ ঘটনা ঘটে বলে গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশ জানিয়েছে।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের ইন্সপেক্টর আমজাদ হোসেন, আন্দোলনরত শ্রমিক ও স্থানীয়রা জানান, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের লক্ষ্মীপুরা এলাকার ইন্ট্রামেক্স পোশাক কারখানায় কর্মরত স্টাফদের পাঁচ মাসের এবং শ্রমিকদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষ ওই পাওনা পরিশোধে একাধিক তারিখ দিলেও তারা তা পরিশোধ করেননি। সর্বশেষ শ্রমিকদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন রবিবার (১৪ অক্টোবর) পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও এদিন তা করেনি কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দেয়। শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে রবিবার কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করেন। এ ঘটনার জেরে দ্বিতীয় দিনের মতো সোমবার সকালে কারখানায় গিয়ে পাওনা পরিশোধের দাবিতে আবারও কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করতে থাকেন তারা। তাদের সঙ্গে কারখানার কর্মচারীরাও যোগ দেন। এসময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানায় ভাঙচুর করেন। পরে বেলা ৩টার দিকে কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসেন। পুলিশের মধ্যস্থতায় আলোচনার পর বকেয়া পাওনা আগামী ২৪ অক্টোবর পরিশোধের ঘোষণা দেন তিনি। কিন্তু আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীরা ওই ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে সোমবারের মধ্যে পরিশোধের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন। এসময় শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে শ্রমিকরা আরও উত্তেজিত হয়ে উঠেন এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। তারা কারখানা থেকে বের হয়ে পাশের ঢাকা-গাজীপুর সড়কে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেলে পুলিশ বাধা দেয়। এতে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয় তাদের। এসময় গাজীপুর শিল্প পুলিশ শর্টগানের ৩১ রাউন্ড গুলি ও ২২ রাউন্ড টিয়ার সেল ছুড়ে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সংঘর্ষে গাজীপুর সদর থানার এসআই বশির আহমেদসহ অন্তত ১৮ জন আহত হন।

এসআইসহ আহত কারখনার কোয়ালিটি কন্ট্রোলার আব্দুল আলিম প্যাকিংম্যান মারফত আলী (২৫) ও আয়রনম্যান মোবারক হোসেনকে (৩০) শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

কারখানার কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর আমান উল্লাহ ও শ্রমিক শহিদুল ইসলাম জানান, কারখানার স্টাফদের যাদের বেতন ১৫-২৫ হাজার টাকা তাদের পাঁচ মাস, যাদের ২৫-৪০ হাজার তাদের ছয় মাস এবং যাদের বেতন তারও উপরে তাদের সাত মাসের বকেয়া রয়েছে। শ্রমিকদের পাওনাদি পূর্ব নির্ধারিত গত ১০ তারিখে পরিশোধের কথা থাকলেও পরিশোধ করেননি। পরবর্তীতে কারখানা কর্তৃপক্ষ একাধিকবার বকেয়া পরিশোধের আশ্বাস দিলেও তা পরিশোধ করেননি। এতে শ্রমিক-কর্মচারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করেছেন।