গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর থানার হাতীমারা এলাকায় কমপক্ষে ১০টি কারখানায় ভাঙচুর চালিয়েছে শ্রমিকেরা। স্থানীয় মিতালী ফ্যাশন লিমিটেড কারখানায় চুরির অভিযোগে মেহেদী হাসান নামে এক শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। গাজীপুর শিল্প পুলিশের কোনাবাড়ী অঞ্চলের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সোহেল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ভাঙচুর করা কারখানার মধ্যে ডেলটা স্পিনিং, মুনটেক্স, মাল্টি ফ্যাবরিক্স, ডেলটা কম্পোজিট, যমুনা গার্মেন্টস, তুসুকা ও কেয়া স্পিনিং। এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবারের জন্য ওই কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মিতালী ফ্যাশন লিমিটেডে চুরির দায়ে বুধবার মেহেদী হাসান নামে এক শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে বুধবার বিকেলেই শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে বিক্ষোভ শুরু করে।পরে মেহেদী হাসান মারা যায়নি তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে তাকে কারখানায় আনা হবে।এ প্রতিশ্রুতি দিলে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ বন্ধ করে।
বৃহস্পতিবার সকালে কারখানায় তাদের সহকর্মী মেহেদী হাসানকে উপস্থিতি না দেখে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করে। তারা সহকর্মী মেহেদী হত্যার গুজব ছড়িয়ে কারখানার অন্য শ্রমিকদের বাইরে নিয়ে আসে। এক পর্যায়ে তারা কাশিমপুর এলাকার কমপক্ষে ১০টি কারখানায় ইটপাটকেল ছুড়ে ও লাঠিসোটা দিয়ে কারখানার গেট, জানালার গ্লাস ভাঙচুর করে। এসময় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে থেমে থেমে যানজট সৃষ্টি হয়।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পরিদর্শক সেলিম মিয়া জানান, চুরির অভিযোগে মেহেদী হাসানকে মারধোর করা হয়েছে। তবে তার গায়ে কোনও জখমের চিহ্ন নেই। তার কাছ থেকে চুরি যাওয়া বেশ কিছু গেঞ্জি উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শ্রমিকরা মেহেদী হাসানকে উদ্ধারের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। তারা আশপাশের কমপক্ষে ১০টি কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ডেকে নিয়ে আসে। মেহেদী হাসানকে কারখানায় নিয়ে আসলে তাকে দেখে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ শেষ করে।
ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কের কোনাবাড়ী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান জানান, শ্রমিকদের বিক্ষোভে ২০ মিনিটের মতো সড়কে যান চলাচল বিঘ্নিত হয়। পরিবেশ থমথমে ছিল। হাইওয়ে, শিল্প ও মেট্রো পুলিশের সদস্যরা দুপুর ১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ ব্যাপারে মিতালী ফ্যাশন লিমিটেডের সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) হযরত আলী ঈমন বলেন,‘চুরির অভিযোগে নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে ধরে আনার সময় সে সামান্য আহত হয়েছে। চুরির অভিযোগে কারখানা ও শ্রম রুলস অ্যান্ড রেগুলেশ অনুযায়ী তাকে চাকুরিচ্যুত করে গাজীপুরের সাতাইশ এলাকার ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। শ্রমিকরা এ ঘটনাকে হত্যার গুজব বলে প্রচার করে অচলাবস্থা সৃষ্টি করেছে। পরে অবশ্য ওই শ্রমিককে কারখানায় আনা হলে তারা বিক্ষোভ বন্ধ করে।