সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে মাদারীপুর সদর উপজেলার শিরখাড়া ইউনিয়নের নিহত এবং নিখোঁজ দুই যুবকের পরিবারের সদস্যরা দুর্ঘটনার খবরে ভেঙে পড়েছেন। তাদের মা-বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা তাদের সন্তানদের ফিরে পেতে চান। খোয়াজপুর মঠেরবাজার এলাকার নিখোঁজ অপর এক যুবকের বাড়িতেও একই দৃশ্য দেখা গেছে।
মাদারীপুর সদর উপজেলার শিরখাড়া ইউনিয়নের উত্তর শিরখাড়া গ্রামের সজীব শিকদার (১৮) নৌকাডুবিতে মারা গেছেন। তার পিতার নাম আদেলউদ্দিন শিকদার। মা বেবী খাতুন। এক বোন ও তিন ভাইয়ের মধ্যে সজীব সবার ছোট। পরিবারের সদস্যরা সজীবের নিখোঁজ ওহয়ার সংবাদটি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।
এছাড়া ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে একই ইউনিয়েনের পশ্চিম বল্লভদী গ্রামের মনির হোসেন নামের এক তরুণ নিখোঁজ রয়েছেন। ওই গ্রামের আদারী মাতুব্বরের ছেলে মনির গত বছরের রমজান মাসে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশে বাংলাদেশ ছাড়েন। পাঁচ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে মনির চতুর্থ।নৌকাডুবির আগে গত ৯ মে সে যোগাযোগ করেছিল বলে জানান পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত মনির ওই নৌকায় ছিলেন। তাদের বিশ্বাস মনির এখনও বেঁচে আছেন।
ওই ইউনিয়নের শ্রীনদী গ্রামের জুবায়ের মাতুব্বরের ছেলে নাদিম মাতুব্বরও (১৮) নৌকাডুবিতে নিখোঁজ হন। তিনি এক বছর আগে স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে লিবিয়া গিয়েছিলেন। জুবায়ের মাতুব্বরের পাঁচ ছেলের মধ্যে নাদিম মেঝো। পরে সাত লাখ টাকা খরচ করে স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে তিনি ইতালির উদ্দেশে পাড়ি জমান।
এছাড়া খোয়াজপুর মঠেরবাজার এলাকার মজিবর রহমানের ছেলে সাইফুল ইসলাম (২৪) ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা এবং হতভাগ্য যুবকদের পরিবারের সদস্যরা জানান, মাদারীপুর জেলায় ইউরোপ বিশেষ করে ইতালি প্রবাসীর সংখ্যা অনেক বেশি। দালালদের প্রলোভনে পড়ে অনেক যুবক উন্নত জীবনের আশায় সমুদ্রপথে ইতালি ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এমনই কয়েকজন যুবক এবার নৌকাডুবিতে প্রাণ হারিয়েছেন। তারা দালালদের কঠিন শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান।
মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুল ইসলাম জানান, ভূমধ্যসাগরে নিহত ও নিখোঁজদের বিষয়ে জেলা প্রশাসন খোঁজ রাখছে। পরিবারগুলোকে এ বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ৯ মে রাতে লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে তিউনিশিয়ার উপকূলবর্তী ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীবাহী নৌকাডুবিতে নিহত ২৭ বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। সোমবার (১৩ মে) বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এদের মধ্যে সিলেট জেলার বাসিন্দা ছিলেন ১৪ জন। বাকিরা নোয়াখালী, গাজীপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, কিশোরগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা বলে জানায় রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।