বাবুল-মতিকে শ্রমিক লীগের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ

মানিকগঞ্জ

মানিকগঞ্জ জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি বাবুল সরকার ও সাধারণ সম্পাদক কাজী মতিউর রহমানকে সংগঠনটির কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (৩০ অক্টোবর) বিকালে মানিকগঞ্জ আদালতের সিনিয়র সহকারী জজ (ভারপ্রাপ্ত) মো. খুরশীদ আলম এ নির্দেশ দেন।

এ তথ্য নিশ্চিত করে বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুর রশিদ জানান, গত ১৫ অক্টোবর শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদিত মানিকগঞ্জ জেলা কমিটি কেন অবৈধ নয় তা জানতে আগামী সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শনোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শুকুর মাহামুদ, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, জেলা কমিটির সভাপতি বাবুল সরকার ও সাধারণ সম্পাদক কাজী মতিউর রহমানকে এ নির্দেশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, গতকাল মঙ্গলবার জেলা শ্রমিক লীগের আগের কমিটির সভাপতি আব্দুল জলিল ও সাধারণ সম্পাদত হানিফ আলী বাদী হয়ে ‘অবৈধ’ কমিটি বাতিলের দাবিতে আদালতে মামলা করেন।

শ্রমিক লীগ সূত্র জানায়, গত ৭ অক্টোবর কেন্দ্রীয় কমিটি মো. আব্দুল জলিলকে সভাপতি এবং মো. হানিফ আলীকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭১ সদস্যের মানিকগঞ্জ জেলা শ্রমিক লীগের কমিটির অনুমোদন দেয়। শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ইসলাম ওই কমিটির অনুমোদন দেন। কিন্তু পরে ১৫ অক্টোবর বাবুল সরকারকে সভাপতি ও কাজী মতিউর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে মানিকগঞ্জ জেলা শ্রমিক লীগের ৭১ সদস্যের আরেকটি কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় কমিটি। ২০ অক্টোবর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শুক্কুর মাহামুদ মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের কার্যালয়ে গিয়ে বাবুল সরকারের হাতে ওই অনুমোদনের কপি তুলে দেন। এসময় সংসদ সদস্য এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম উপস্থিত ছিলেন।

৭ অক্টোবর ঘোষিত জেলা শ্রমিক লীগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. হানিফ আলী বলেন, ‘২০১৮ সালের ৮ অক্টোবর বাবুল সরকারকে সভাপতি এবং তাকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম মানিকগঞ্জ জেলা শ্রমিক লীগের কমিটির অনুমোদন দেন। কিন্তু দীর্ঘ ২২ মাস অনুপস্থিত থাকা এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে জেলা কমিটির সভায় ৭১ সদস্যের মধ্যে ৫৫ জনের সম্মতিতে বাবুল সরকারকে বহিষ্কার করা হয়। ৭ অক্টোবর আব্দুল জলিলকে সভাপতি করে কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। সেই কমিটিকে কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অনুমোদন দেন।  কিন্তু  সাতদিনের মাথায় বাবুল সরকারকে সভাপতি করে আরেকটি কমিটির অনুমোদন দেওয়া হলে এ নিয়ে বিতর্ক জন্ম নেয়।’

৭ অক্টোবর ঘোষিত জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি আব্দুল জলিল বলেন, ‘পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজির কারণে বাবুল সরকার বিতর্কিত হন। জেলা শ্রমিক লীগের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাকে জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতির পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। একজন বহিষ্কৃতকে কীভাবে জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি বানানো হলো, বোধগম্য নয়।’