সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভা এলাকায় মায়ার বাড়ি থেকে গোলাকান্দাইল পর্যন্ত ২০টি বেশির ড্রেজার পাইপ বসানো হয়েছে। মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে সুড়ঙ্গ বা গুহা তৈরি করে এসব পাইপ বসানো হয়েছে। এর কোনোটির অনুমোদন নেই বলে জানায় স্থানীয় প্রশাসন। ২২ ডিসেম্বর কালাদি বড় মসজিদের পাশে স্থানীয় একটি মহল মহাসড়ক কেটে সুড়ঙ্গের কাজ শুরু করে। স্থানীয় প্রকৌশল বিভাগকে জানালে তারা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রধান প্রকৌশলী এনায়েত কবীর বলেন, ‘কাজটি যেহেতু সড়ক ও জনপথের। তাই আমাদের কিছু করার নেই।’
এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগম বলেন, ‘সড়কে সুড়ঙ্গ বা বোরিং করে ড্রেজারের পাইপ বসিয়ে বালু ফেলানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। রাস্তাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের। এটি দেখভাল করেন তারা। সড়ক ও জনপথ বিভাগ যদি আমাদের সহায়তা চায়, তবে আমরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।’
জানা গেছে, পূর্বাচল নতুন শহরকে ঘিরে শীতলক্ষ্যার পূর্ব পারেও রয়েছে অনুমোদনহীন বেশকিছু আবাসন প্রকল্প। তাদের প্রকল্পে বালু ফেলতে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে অসদুপায় অবলম্বন করছে। তাদের মধ্যে কালাদি এলাকার খালেক মেম্বারের ছেলে মনির হোসেন, জলিল মিয়ার ছেলে নয়ন, সোবেদ আলীর ছেলে মোজাম্মেলসহ একটি চক্র চুক্তিভিত্তিক এসব সুড়ঙ্গের কাজ করে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে স্থানীয় নেত্রী শামসুননাহারসহ একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট হামলা করে বলে জানান স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে কাঞ্চন পৌরমেয়র রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যারা বালু ব্যবসা করেন, তারা আবাসনের কাছে চুক্তি মোতাবেক বালু ভরাট করেন। তবে মহাসড়কে কে বা কারা সুড়ঙ্গ করছে তা খতিয়ে দেখে প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগম বলেন, আবাসন কোম্পানিগুলোর লোকজন একদিকে জোরপূর্বক বালু ফেলে সাধারণের হয়রানি করছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করছে। এসব বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে কাজ করছি।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের বিভাগী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এ ধরনের কাজে কোনোমতেই সওজ অনুমোদন দেয় না। যারা অনুমোদনের কথা বলে তারা নিছক ভুল তথ্য দিচ্ছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেত্রী শামসুননাহার বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের রাস্তা বোরিং করে শুধু আমি নই, বালু ভরাটের জন্য আরও কয়েকজন পাইপ বসিয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমি একটি বালু ভরাটের কাজ পেয়েছি। সেই কাজে বাধা দিতেই আমার দলের কিছু লোক এসব মিথ্যা অভিযোগ করছে মিডিয়ার কাছে।’
তিনি বলেন, ‘স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হাই, হেমায়েতসহ ৮-১০ জন এভাবে রাস্তা বোরিং করে পাইপ বসিয়ে বালু ভরাট করছে।’